নিজের বাচ্চাকে বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা

0
408
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মা আর ছা। তাও একবেলা ভাল করে খাবার জোটে না। ফলে অপুষ্টি গিলে খাচ্ছিল তাদের। মায়ের শরীরে বাসা বেঁধেছে যক্ষ্মারোগ। শিশুসন্তানও খেতে না পেয়ে পেয়ে রুগণ হয়ে পড়ছে ক্রমে। মা হয়ে পেটের ছেলের এমন অবস্থা দেখতে পারছিলেন না স্বামীহীনা মহিলা। শেষমেশ সামান্য টাকার বিনিময়ে বাচ্চাকে তুলে দিতে চেয়েছিলেন পরের হাতে। ভেবেছিলেন, ছেলে তার কাছে থাকলে খেতে না পেয়ে মরেই যাবে। তবু অন্য লোক নিয়ে গেলে সেখানে অন্তত পেটভরে দুটো খেতে পাবে, তার আদরের লাল। বেঁচে থাকবে, বড় হবে, মানুষের মত মানুষ হবে। বদলে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে তার নিজের চিকিৎসা আর কিছুদিন বেঁচে থাকার রসদ তো মিলবে। কিন্তু প্রশাসনের নজরে আসায় সেই সাধ পূর্ণ হয়নি মায়ের। শিশু ‘বিক্রি’ করা থেকে তাকে নিরস্ত্র করার পর মাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবশ্য চিকিৎসকদের যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচানো যায়নি মাকে। একরত্তি শিশুটিও চিরদিনের জন্য অনাথ হয়ে গিয়েছে।

ঘটনা বিহারের নালন্দা জেলার। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সামনে আসে দুস্থ মায়ের ঘটনাটি। দীর্ঘদিন ধরে টিবি রোগে আক্রান্ত মহিলার সাধ্য ছিল না চিকিৎসাখরচ যোগাড় করার। অন্যদিকে সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করতে পারছিলেন না। হতদরিদ্র মা উপায় খুঁজতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। লোকের কাছে সাহায্য চেয়েও পাননি হতদরিদ্র মা। অবশেষে অপুষ্টিতে ভোগা নিজের শিশুটিকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে অন্যকে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নামে প্রশাসন। বিপুল তৎপরতার সঙ্গে মাকে উদ্ধার করে ভর্তি করানো হয় স্থানীয় হাসপাতালে। যদিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার।

নালন্দার জেলাশাসকের তরফে জানানো হয়, বুধবার সকালে ওই মহিলা নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সবরকম মেডিক্যাল সহযোগিতা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই মর্মে টুইটারে একটি পোস্ট করেন নালন্দার জেলাশাসক যোগেন্দ্র সিং। তিনি জানান, টিবি রোগে আক্রান্ত মহিলাটি আজ সকালেই মারা গিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শেষপর্যন্ত তাকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। বাচ্চাটিকে অনাথ আশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here