পাকার আগেই হাজির হাতির পাল, চোখের সামনে নষ্ট বিঘের পর বিঘে জমির ধান

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, শালবনি: প্রতিবছর ধান পাকার মরসুমে দলমা ও ময়ূরঝঝর্না থেকে হাতির পাল এসে হাজির হয়ে যায়। এবার সময়ের আগেই দলমার হাতির পাল হাজির হয়ে গিয়েছে। একশোর বেশি হাতি রয়েছে এই দলে। হাতির পালটি কয়েকদিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরের চাঁদড়ার অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামগুলিতে ঘোরাফেরা করছিল। সেখানে একাধিক হামলা চালিয়ে বেশ ক্ষতি করার পর হাতির পালটি বর্তমানে শালবনি থানার অন্তর্গত ননাশোল এলাকায় প্রবেশ করেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে। ননাশোল গ্রামের পাশে কৃষকদের বিঘের পর বিঘে ধান খেয়ে নষ্ট করে গিয়েছে হাতির পাল। গ্রামবাসী ও হুলা পার্টির সদস্যরা কয়েকদিন ধরে তাড়ানোর পরও হাতির পাল কোথাও না গিয়ে সবুজ ধান জমির আশেপাশেই রয়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চোখের সামনেই বিঘের পর বিঘে জমির সবুজ ধান ক্ষতি হতে দেখেছেন কৃষকরা। হাতির পালকে এর থেকে বেশি তাড়ানোর চেষ্টা করলে হিংস্র হয়ে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। তাতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বনদফতরের তরফ থেকে এরকম সাবধানবাণীর কারণে কেউই হাতি তাড়াতে সক্ষম হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত মাহাতো বলেন, প্রতিবছরই ধান পাকলে হাতির পাল এসে নষ্ট করে যায়। এ বছর অনেক আগেই চলে এসেছে। বনদফতর যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়, তা একেবারেই সামান্য। ফলে এ বছরও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হলাম আমরা।

জঙ্গলমহল সংলগ্ন এই এলাকার কৃষকরা এমনিতেই অনেকটা দেরি করে ধান রুয়েছিলেন। ফলে ধান পাকতে অনেকটাই সময় বাকি রয়েছে। তার আগেই সবুজ ধান চারাগুলিকে খেয়ে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে হাতির পাল। আর এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশো কৃষক। বনদফতরের পক্ষ থেকে ডিএফও সন্দীপ বেরাওয়াল বলেন, ক্ষতিপূরণ যা দেওয়ার সেটা তো দেওয়া হবেই। সেইসঙ্গে হাতিগুলোকে দ্রুত এলাকাছাড়া করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে দলে হাতির শাবক থাকার কারণে সাবধানে কাজ করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here