ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে ১১ এপ্রিল। এই ভোটে জনমত গঠনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল। অবাক করার মত তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকই শুধু নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে প্রায় ৮৭ হাজারেরও বেশি গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ২০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী (মান্থলি অ্যাকটিভ ইউজার্স বা এমএইউ) রয়েছেন। এই হিসেব ২০১৭-র ফেব্রুয়ারির। তবে শেষ দু’বছরের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা জানায়নি সংস্থাটি। তাই ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবার সোশাল মিডিয়া নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ভারতে এইমুহূর্তে ৪৩ কোটির কাছাকাছি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন বলে দাবি হংকংভিত্তিক একটি সমীক্ষক সংস্থার। সেই সংখ্যার নিরিখে মাত্র ২০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে ভাবলে ভুল হবে। বলা যেতে পারে, প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। ২০১৬-র সালের শেষ নাগাদ ভারতে প্রায় ২৮-৩০ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ছিলেন। বর্তমানে সংখ্যা যে ৪০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে সন্দেহ নেই।

সমীক্ষক সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ-এর অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর তরুণ পাঠক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে অন্তত ৩০ কোটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপকে আপন করে নিয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন সমপরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারীও।

রিলায়েন্স জিও-র সৌজন্যে ইন্টারনেট-খরচ অতিসস্তা হওয়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলি এখন বৈঠক-সভা-সমাবেশ লাইভ প্রচারের কৌশল নেওয়ায় ফেসবুক এবং ইউটিউবের দর্শক বেড়েছে বহুগুণ। ‘এই প্রযুক্তির দৌলতে ৮৭০০০-এর বেশি হোয়াটস গ্রুপ বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ভোটারদের প্রভাবিত করার কাজে। ভোটের মুখে সেখানে সরকারি বিভিন্ন নীতিসম্পর্কিত ভুয়ো পরিসংখ্যান থেকে স্থানীয়স্তরের হিংসাত্মক ঘটনা, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নানা দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক খবরাখবর, ঐতিহাসিক মিথ থেকে অপপ্রচার, দেশপ্রেম থেকে জাতীয়তাবাদের প্রবল প্রচার হোয়াটসঅ্যাপে চালাচালি হচ্ছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সর্বোচ্চ ২৫৬ জন থাকতে পারেন। ফলে ৮৭ হাজার গ্রুপে এই ধরনের রাজনৈতিক প্রচার চালানো হলে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের কাছে সরাসরি সেই রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে যুক্ত দাবি করেছেন সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা। আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ থেকে একজন ব্যক্তি একলপ্তে পাঁচজনকে (সর্বাধিক ফরওয়ার্ড সীমা) কোনও বার্তা পাঠাতে পারেন। ফলে এই বিপুলসংখ্যক গ্রুপ থেকে বিপুল পরিমাণ মানুষকে প্রভাবিত করার কাজটা অনেক সহজ। ভুয়ো খবর প্রচার রুখতে এই ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের পাশাপাশি সচেতনতা প্রচারের উদ্যোগও নিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ভারতীয় কর্তা অভিজিৎ বোস বলেছেন, ‘আমরা খুশি যে ভাইরাল কন্টেন্ট সীমাবদ্ধ করতে পেরেছি এবং এখন ব্যবহারকারীদের অনেকেই আসল-নকলের পার্থক্য সহজেই ধরে ফেলতে পারছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here