kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: হাজার সতর্কতা সত্ত্বেও রাজ্যের ভোট-বাজারে কালো টাকার রমরমা অব্যাহত। বেআইনি মদ ও ড্রাগসের কারবারে কমতি নেই। নির্বাচন কমিশনের তথ্যই বলছে, প্রথম চার দফার ভোটেই রাজ্যে নগদ, মদ, ড্রাগস মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে নগদ টাকার অঙ্ক ৫০ কোটি ৭১ লক্ষ। পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ২০ কোটি টাকার সামান্য বেশি। কমিশনের আধিকারিকদের আশঙ্কা, রাজ্যে যে ভাবে অবৈধ টাকা বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, তাতে অষ্টম দফার শেষে বাজেয়াপ্ত কালো টাকার অঙ্ক একশো কোটি পার করে যেতে পারে। শুধু বাজেয়াপ্ত কালো টাকা নয়, মদ-ড্রাগস ও দুর্মূল্য সামগ্রীর পরিমাণ দেখে কমিশনের আধিকারিকদের চোখ ছানাবড়া। কমিশন সূত্রে খবর, এই ভোটে রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে সবথেকে বেশি পরিমাণ কালো টাকার বন্যা বইছে। তার পাশাপাশি মদ-ড্রাগসেরও যেভাবে ব্যবহার হচ্ছে তা রীতিমতো আতঙ্কের।

নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে থেকে নগদ, মদ, ড্রাগস, ও দুর্মূল্য সামগ্রী মিলিয়ে ৩০০ কোটি ১১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে নগদ টাকার অঙ্ক ৫০ কোটি টাকার বেশি। বাকিটা মদ, মাদক ও দুর্মূল্য সামগ্রীর মূল্য। দ্বিতীয় দফার ভোটের পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির সীমান্ত এলাকা হয়ে উঠছে বিপুল টাকা লেনদেনের মৃগয়া ক্ষেত্র।তবে ওই আধিকারিকের কথায়, ‘যা বাজেয়াপ্ত হয়েছে তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। বাজেয়াপ্ত টাকার অন্তত ২০ গুণ বেশি টাকা ভোটে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নজরদারির বাইরে রয়ে গিয়েছে।’

ইতিমধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে খাস কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে ঘাঁটি গেড়ে বিপুল টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সবটাই হচ্ছে নগদ এবং নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে। কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভুটান সীমান্ত, বিপুল অঙ্কের টাকা ঢুকছে নির্দিষ্ট রুটে। ভিনরাজ্য থেকে এমনকী সড়কপথেও অনায়াসে ঢুকছে কালো টাকা। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ার ভয়ে টাকা-মদ বাজেয়াপ্ত করলেও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে আয়কর ও আবগারি দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here