kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: লকডাউনের জেরে মন খারাপ ওদের। কারণ, তাদের প্রাণের বন্ধুদের পর্যাপ্ত খাবার দিতে পারছে তারা। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে তাদের ভাঁড়ারই শূন‍্য হতে চলেছে,  তার ওপর বন্ধুদের খাবারের সংস্থান হবে কী করে? তবে সবাই যে বলছে সরকার ছাড়াও অনেক সংস্থা বর্তমানে মানুষের জন‍্য বাড়ি বাড়ি চাল, ডাল, তেল, গম পৌঁছে দিচ্ছে। কই তাদের বা বন্ধুদের জন‍্য তো কেউ দিচ্ছে না। তা হলে কী খেয়ে বাঁচবে তারা। সেই চিন্তায় মন খারাপ উপেন, উপশ্রী, মন্দিরাদের।

হুগলির পোলবা ব্লকের গান্ধিগ্ৰাম, রাজহাট, চকগোটু, চৌতারা-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের খেত, বনাঞ্চলের মাধ‍্যে বাস করে দু’শোর বেশি নীলকণ্ঠী ময়ূর। রাজস্থানের নীলকণ্ঠী ময়ূরের মতোই এখানকার ময়ূরও দেখতে খুব সুন্দর। গ্ৰামের স্নিগ্ধ ছায়ায়, গ্ৰামের মানুষের পরিচর্যায় ও ভালবাসায় এরা বসবাস করে আসছে অনেক বছর ধরে। গান্ধিগ্ৰামের উপেন্দ্রনাথ কোল্ল্যা ও তার পরিবারের দাদা, বৌদি, কচিকাচারা মিলে সারা বছর তাদের খাদ‍্যের জোগান দেন। খেতের ফসল, বনের পোকমাকড় খেয়ে তাদের মন ভরে না। তাই  খিদে পেলেই ময়ূর-ময়ূরীরা দলে দলে তাদের বাড়িতে এসে চিৎকার করে। প্রত‍্যেক মাসে তিন কুইন্ট‍্যালের ও বেশি গম মজুত থাকত তাদের বন্ধুদের জন‍্য। নিজেদের সংসারের খরচা থেকে বন্ধুদের জন‍্য খাবার জোগাড় করতে প্রত‍্যেক মাসে খুবই কষ্ট হয় তাদের। তা সত্ত্বেও দেশের জাতীয় পাখির জন‍্য খাদ‍্যের জোগান তারা আগেই করে রাখেন। মাঝে মধ‍্যে কেউ কেউ সাহায‍্যেও করে তাদের। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। লকডাউনের পরিস্থিতিতে বাজারহাটে সমস্ত নিত‍্য প্রয়োজনীয় দ্রব‍্যের দাম চড়া। সেই সঙ্গে খেটে খাওয়া মানুষদের কজকর্ম বন্ধ। তাই ঠিকঠাক জোগাড় করা যাচ্ছে না গম। আগে ৩ কুইন্ট‍্যাল গম সারা মাস চললেও এখন এক কুইন্ট‍্যাল গম দিয়ে একমাস চালাচ্ছেন উপনেবাবুরা। বাজার থেকে যে গম আগে ১৮ টাকা প্রতি কেজি দরে কিনতেন, এখন সেই গমের দাম ২৩-২৫টাকার কাছাকাছি। ফলে নিদারুণ সমস‍্যায় পড়েছেন পরিবারের সদস‍্য

সেই সঙ্গে লকডাউনের ফলে কাজ বন্ধ। টাকা পয়সা যা আছে তা দিয়ে কয়েকদিনের খাবার মজুত করা হয়েছে। চড়া দাম হলেও বন্ধুদের জন‍্যেও কয়েকদিনের খাবার মজুত করেছে উপেনেরা‌। তবে দু-তিন দিনেই শেষ হয় যাবে সেই ভাঁড়ার। আগের থেকে পরিমাণে কম কম করে খেতে দেওয়া হচ্ছে তাদের, যাতে আরও কয়েকদিন চলে। ফলে ঠিকঠাক পেট ভরছে না নীলকণ্ঠীদের। সেইসঙ্গে মাঠ ঘাটেও পর্যাপ্ত খাবার মিলছে না। ফলে আগামীদিনে কীভাবে জোগান দেবে তাদের খাবার। সেটা ভেবে মন খারাপ গোটা পরিবারের। এরই মধ‍্যে মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত পঞ্চাশ কেজি চাল ও চুঁচুড়া আরোগ‍্য(একটি সমাজসেবী সংস্থা) একশো কিলো গম দিয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস‍্যরা। যা দিয়ে আরও অন্তত কিছু দিন চলবে। কিন্তু তারপর। করোনাকে হারাতে ইতিমধ‍্যেই  আরো বেশি লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করতে শুরু করছে চিকিৎকমহল। সেক্ষেত্রে সমস‍্যা বাড়বে।

একাধিকবার বহু কষ্টে চোরাশিকারীদের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে পারলেও সারা বিশ্বে অতি মহামারীর আকার নেওয়া করোনা ভাইরাস মানব জীবনে যেভাবে সংকট তৈরি করেছে তার প্রভাবে এবার কী জাতীয় পাখিও বিপদগ্ৰস্ত?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here