ডেস্ক: আলফানসো, ল্যাংড়া কিংবা হিমসাগর নয়! এ একেবারে খাস নবাবি আম! যার জুড়ি মেলা ভার। আমটির নাম হয়ত অনেকেরই অজানা। ইদানিং প্রচলিত আম-উৎসবের মাধ্যমেই এই বিশেষ প্রজাতির আমটি নজর কেড়েছে বাঙালির। তবে এখানেই শেষ নয়, রয়েছে আরও চমক। অ্যান্টিক আসবাব, গয়নার মতো এই আমেরও নিলাম হয়। আর সেই আমের দাম শুনলে চোখ কপালে তুলবেন আপনিও। নিলামে এক একটির দর উঠেছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। আমের নাম ‘কহিতুর’। এটিই বিশ্বের সব থেকে দামি আম।

ইতিহাসের পাতা নাড়াচাড়া করলে জানা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীতে নবাবি জামানায় আবির্ভাব এই দুর্লভ আমের। বলা হয় নবাব সিরাজউদ্দৌলা খোদ আমের বড় ভক্ত ছিলেন। তিনি গোটা দেশ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির আমের চারা গাছ এনে মুর্শিদাবাদে চাষ করতেন। তাঁর আগে মুর্শিদকুলি খাঁ-রও আমের শখ ছিল। এই নবাব পরিবারেরই খাস সম্পদ হল ‘কহিতুর’ আম। ২০১৫ সাল থেকেই কলকাতাতেও পাওয়া যাচ্ছে এই বিশ্ব বিখ্যাত আম।

শুধু তাই নয় এই আমের রক্ষনাবেক্ষণেরও আলাদা পদ্ধতি আছে। কলকাতার বাজারে তুলোর মোড়কে অতি যত্নে বিকোচ্ছে এই নবাবি আম। তবে বিক্রেতা জানাচ্ছেন এই আম এখন আগের তুলনায় বাজারে এখন অনেক কম পাওয়া যায়। লালবাগের কাছে আট থেকে দশটা, জিয়াগঞ্জে রয়েছে তিন থেকে চারটে। সব মিলিয়ে এই দুষ্প্রাপ্য আম গাছের সংখ্যা হাতে গোনা গোটা পঞ্চাশও হবে কিনা তা সন্দেহ।

আমের প্রজাতির বিচারে তাই কোহিনুর হীরের সঙ্গে তুলনা টানাই যায় এই দুষ্প্রাপ্য আমের। মুর্শিদাবাদের এই নবাবি আমকে জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশনের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর আগে রত্নগিরি, আলফানসো এই জিআই তকমা পেয়েছে, এবার পালা কহিতুরের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here