kolkata news

মহানগর ডেস্ক: চারঘণ্টার নোটিশে দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তার জেরেই বিপাকে পড়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাতারাতি বেকার হয়ে গিয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। পরিবার নিয়ে  নিজের রাজ্যের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেছিলেন। এর জেরে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ফের দেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিল্লিতে নাইট কারফিউ চালু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে সপ্তাহের শেষের দুই দিন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে নাইট কারফিউ চালু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিযায়ী শ্রমিক আগাম নিজের রাজ্যে ফিরতে শুরু করেছে।

লকডাউনের পর যখন পরিযায়ী শ্রমিকরা ফের কর্মস্থলে আসতে শুরু করেছেন, পরিবারকে তাঁরা নিজের রাজ্যে, নিজের গ্রামেই রেখে এসেছেন। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, লকডাউনে ফিরে আসা শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ একাই এসেছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাও আগের থেকে কম বলে জানা গিয়েছে সমীক্ষা থেকে। ঝাড়খণ্ড থেকে দিল্লিতে আসা পরিযায়ী শ্রমিক আনসারি জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় আমাদের যে কী পরিস্থিতি হয়েছিল, তা শুধু আমরাই জানি। লকডাউনের সময় চাকরি হারিয়েছিলাম। চাকরির খোঁজে আবার এসেছি। একটা কাজ জোগাড় করেছিলাম। কিন্তু সেই কাজটাও চলে গিয়েছে। ১০দিনের মধ্যে কোনও কাজ না পেলে আবার গ্রামে চলে যাব। তিনি বলেন, ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। স্ত্রীকে এবারে তিনি নিয়ে আসেননি। একা থাকা যতটা সহজ, পরিবার থাকলে ততটা সহজ হয় না।

ঝাড়খণ্ডের জয়েন্ট লেবার কমিশনার রাকেশ প্রসাদ জানিয়েছেন, অনেক পরিযায়ী শ্রমিক ফের কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু ফের স্ত্রী বা পরিবারকে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তাঁরা নিতে পারেননি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের লকডাউন হতে পারে বলে পরিযায়ী শ্রমিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আহমেদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিক ভিত্তিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আজিভিকা ব্যুরোর আধিকারিরক মহেশ গাজরা বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লকডাউন হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে ছোট ছোট এলাকা জুড়ে লকডাউন করা হচ্ছে। এর ফলে ফের পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ হারাতে শুরু করেছেন। আহমেদাবাদের একদল পরিযায়ী শ্রমিক গত সাতদিন ধরে কোনও কাজ পাননি। তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুজরাটে আসা বেশিরভাগ পরিযায়ী শ্রমিক একা এসেছেন। মূলত তাঁরা কাজ খুঁজতে এসেছেন। এক্ষেত্রে পরিবারকে আনার ঝুঁকি তাঁরা নেননি।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here