জামাই নিধনে কাঠগড়ায় মা-মেয়ে! খুনের কারণে উঠে এল কামনার জ্বালা

0
9443
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কল্যাণী: মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে গিয়েই চোখে পড়েছিল সুদর্শন সুপুরুষ যুবকটির ওপরে। হাতছাড়া করতে চাননি, তাই সেই যুবকের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে দ্বিধা করেননি স্বামীহারা মধ্যবয়স্ক মহিলা। তবে সেই বিয়ে দেওয়ার পিছনে ছিল আরও গূঢ় উদ্দেশ্য। মেয়ের জন্য পাত্রকে নিজের জন্যও পছন্দ করে নিয়েছিলেন ওই মহিলা। খালি মুখ ফুটে বিয়ের আগে কিছুটি বলেননি। বুঝতে দেননি ওই যুবকের বাহুবন্ধনে ধরা দিতে ছটফট করছেন তিনি। বুঝতে দেননি ওই যুবককে দেখেই তার শরীরে জ্বলে উঠেছে কামনার আগুন। যেন তেন প্রকারণে হোক জামাইকে চেয়েছিলেন তিনি নিজের বিছানায়। সেই সুযোগটাও আসতে বেশি দেরি হয়নি। বিয়ের পর জামাইয়ের হাতে সরাসরি নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছিলেন শাশুড়ি। মায়ের কুকীর্তি জানতে বাকি ছিল না মেয়ের। কিন্তু প্রতিবাদ তো দূরের কথা, মায়ের ইচ্ছাপূরণেই মত ছিল মেয়ের। কিন্তু এই অসামাজিক সম্পর্কে ধরাই দিতে চাননি ওই যুবক। তবে তিনি এটা ভাবেননি, শাশুড়ির কামনা মেটাতে না পারলে জীবন চুকিয়েই দাম দিয়ে যেতে হবে তাঁকে। বুধবার রাতে কিন্তু সেই জামাই খুনের ঘটনাতেই গ্রেফতার হলেন মা-মেয়ে। এই ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়া জেলার কল্যাণী মহকুমার হরিণঘাটা এলাকায়।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল নামে ওই যুবকের পিসির অভিযোগ, বিয়ের সময় একবারও মেয়ের বাড়ির তরফ থেকে বলে দেওয়া হয়নি তাকে ঘরজামাই হয়ে থাকতে হবে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই বিশ্বজিতের ওপর তার স্ত্রী আর শাশুড়ি চাপ বাড়াচ্ছিল যাতে সে ঘরজামাই হয়ে থাকে। পরে অবশ্য ঘরজামাই হয়ে থাকতে বলার কারণ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল বিশ্বজিতের কাছে। শাশুড়ি জামাইকে জোর করতো মেয়ে ও তার সঙ্গে একসঙ্গে সহবাস করতে হবে। এখনকার ভাষায় যা ‘থ্রিসাম’ নামেই পরিচিত। একপ্রকার বাধ্য হয়েই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়িতেই থাকতেন বিশ্বজিৎ। সেখানেই শাশুড়ি জামাইয়ের সঙ্গে বারবার সহবাস করতে চাইতো। বিশ্বজিৎকে কিছুতেই বাড়ি যেতে দিত না তার শাশুড়ি। এই সব কিছু জানত বিশ্বজিতের স্ত্রী। কিন্তু মায়ের কুরুচিকর প্রস্তাবের বিরোধীতা করার জায়গায় সানন্দে তাতে সায় দিয়েছিল সে। তারও মনে মা আর স্বামীর সঙ্গে একত্র যৌনাতার খেলায় মগ্ন হওয়ার ইচ্ছা জাঁকিয়ে বসেছিল।

kolkata bengali news
মৃত বিশ্বজিত (বাঁ দিকে নীচে), বিশ্বজিতের বাড়ি (বাঁদিকের ওপরে) এবং বিশ্বজিতের শ্বশুড়বাড়ি (ডানদিকে)। এখানেই খুন হন তিনি।

কিন্তু এই প্রস্তাবে সায় ছিল না বিশ্বজিতের। বিশ্বজিতের পিসির অভিযোগ, শাশুড়ির কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন হতে হয়েছে বিশ্বজিতকে। বুধবার রাতে শাশুড়ি ও স্ত্রী মিলে বিষ খাইয়ে মাথায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করে বিশ্বজিৎকে, এমনটাই অভিযোগ মৃতের পিসির। এরপরই পুলিশ বিশ্বজিতের শাশুড়ি আর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ এটাও দেখছে খুন হওয়ার পিছনে অন্য কোন কারন কাজ করছে কিনা। যদিও শাশুড়ির সঙ্গে সহবাসে রাজি না হওয়ায় জামাই খুন হওয়ার ঘটনায় হরিণঘাটা এওলাকায় বেশ ভালই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here