মাঝরাতে বিধ্বংসী আগুন, আলিপুরদুয়ারে বন্ধ ঘরে আগুনে ঝলসে মৃত্যু দুই সন্তান সহ মায়ের

0
17
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মাঝরাতে বন্ধ ঘরে আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল দুই শিশু সন্তান সহ মায়ের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের হাসিমারা এমইএস চৌপথি এলাকায়। পুলিশ জানায়, ১১ বছরের মেয়ে সুস্মিতা ও ২ বছরের ছেলে দীপুকে নিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিলীপ বর্মনের স্ত্রী গীতা বর্মন। দিলীপ বর্মন আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। মাঝরাতে তাঁদের বাড়িতে কীভাবে আগুন লাগল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগেছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিমারা এমইএস চৌপথি এলাকার বাসিন্দা দিলীপ বর্মন। অন্যান্য দিনের মত সোমবার রাতেও তিনি স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে শুতে যান। মাঝরাতে হঠাত্ই তাঁর বাড়িতে বিধ্বংসী আগুন লাগে। প্রতিবেশীরাই প্রথমে দিলীপবাবুর বাড়ি থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাড়িটি গ্রাস করে নেয়। দিলীপবাবুরা যে ঘরে শুয়েছিলেন, সেই ঘরের দরজাও আগুনের গ্রাসে চলে যায়। তখন প্রতিবেশীরাই তড়িঘড়ি দমকলে খবর দেয়। তারপর দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দমকল কর্মীরা যতক্ষণে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর ঢোকেন, ততক্ষণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দিলীপ বর্মন কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল দিলীপবাবুক গোটা বাড়ি। স্বামী, সন্তান নিয়ে গীতা যে ঘরে শুয়ে ছিলেন, সেই ঘরটিও বাদ ছিল না। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘর থেকে বেরোনোর পথও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সন্তানকে কোলে নিয়ে দরজার কাছে এসেও বেরোতে পারছিলেন না গীতা। পরে তিনজনের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। মাঝরাতে বাড়িটিতে কীভাবে আগুন লেগেছে, সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এভাবে দুই শিশু সহ গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here