kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: মৃত মেয়ের দেহ পাঁচ দিন ধরে আগলে রাখলেন মা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘরিয়ায়। এই ঘটনায় ফের একবার সামনে এল রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া। উত্তর শহরতলির বেলঘরিয়ার বিএন ঘোষাল রোডে বছর ৩৮-র মেয়ে পারমিতা ভট্টাচার্যের দেহ আগলে ছিলেন তার মা জয়া ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলার দিকে ভট্টাচার্য পরিবারের প্রতিবেশী এক মহিলা ওই বাড়িতে গিয়ে জয়া দেবীদের দরজায় ধাক্কা দিয়ে জানতে চান কোনও খাবার লাগবে কিনা, তখন জয়াদেবী জানান, দিন পাঁচেক আগে তার মেয়ে মারা গেছে। আর কিছু লাগবে না। তিনি কাউকে জানিয়েছেন কিনা ওই প্রতিবেশী প্রশ্ন করতে জয়াদেবী বলেন, না। মেয়ে ঘরে আছে। সবাইকে বলব।

এরপরে ওই প্রতিবেশী এলাকার বাসিন্দাদের খবর দেন। তারপরে স্থানীয়রা এসে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন পারমিতার পচা-গলা দেহ খাটের ওপর পড়ে রয়েছে। এরপর স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি ও বেলঘরিয়া থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কামারহাটির সাগর দত্ত হাসপাতালে পাঠায়।

এই ঘটনার পরেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে পারমিতার মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। যদিও পুলিশ সূত্রের খবর, পারমিতার মৃত্যুর কারণ ময়না তদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বাভাবিক কোনও কারণেই মৃত্যু হয়েছে পারমিতার। জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার বিএন ঘোষাল রোডের ৩৩/১ বাড়ির নীচতলার বাসিন্দা ভট্টাচার্য পরিবার। বছর খানেক আগে প্রাক্তন রেলকর্মী পারমিতার বাবা সুনীল ভট্টাচার্যের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ওই বাড়ির নীচের তলায় মা ও মেয়ে থাকতেন। আরও জানা গিয়েছে, মা ও মেয়ে দু’জনেই কারও সঙ্গে সে ভাবে কথা বলতেন না।

দিন দশেক আগে তাদের শেষ দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাদের আর কেউ দেখেননি। তাই এ দিন প্রতিবেশী খোঁজখবর নিতেই প্রকাশ্যে আসে এই ঘটনা। স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি সুব্রত চ্যাটার্জী জানান, দিন দশেক আগে মেয়েটি ওয়ার্ড কমিটির অফিস থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যান। এলাকার মানুষের অনুমান, দিন পাঁচেক আগে পারমিতা মারা গিয়েছেন। মা ও মেয়ে দু’জনই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু কী কারণে মৃত্যু হল, তা জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্টের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here