নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওড়া: পড়াশোনায় মন দেওয়ার জন্য ছেলেকে বকা দিয়েছিলেন মা৷ কিন্তু তার বকাবকিতে যে ছেলে কাউকে কিছু না জানিয়েই অভিমানি হয়ে গায়েব হয়ে যাবে, ঘুনাক্ষরেও বুঝে উঠতে পারেননি হাওড়ার চামরাইলের বাসিন্দা মিঠুদেবী৷কিন্তু মায়ের মন! ছেলেকে বকেই গুমরে কেঁদে উঠেছেন৷ দীর্ঘক্ষণ ফিরতে না দেখে যত রাজ্যের দুশ্চিন্তা ভিড় করতে থাকে তার মনে৷ তাহলে কি বকা খেয়েই বেরিয়ে গেল রোহিত৷ এরকমই এটা সেটা ভাবতে ভাবতে কান্না ক্রমশ বেড়েই চলেছিল মায়ের৷ তবে সেখানেই শেষ নয়,  শুধু চোখের জল ফেলেই খান্ত হননি তিনি, ছেলের চিন্তা তাকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে পেটের সন্তানকে ফিরতে না দেখে শেষমেষ শোকে আত্মঘাতী হয়েছেন মা৷

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে পড়তে বসার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠরত ছেলেকে বকাবকি করেন মা মিঠু রায়। ঘুড়ি কিনতে যাওয়ার নাম করে  তখনই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল রোহিত। তারপর সন্ধ্যা নামলেও রোহিত ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার। ছেলেকে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন মিঠুদেবীও। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর রাতে আমতার পুরাস গ্রামের মিঠুদেবীর বাপের বাড়ি থেকে ফোন আসে রোহিতের বাবার কাছে। ছেলে মামার বাড়ি চলে এসেছে বলে জানায় মিঠুর বাপের বাড়ির লোকেরা। এদিকে ছেলের খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি এসে স্ত্রীকে খবর দিতে গিয়ে ঘর বন্ধ দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন মিঠুদেবীর স্বামী কার্তিক।

কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! ছেলে তো ফিরল, কিন্তু মিঠুদেবীর নিথর দেহটা তখন ঝুলছিল সিলিংয়ের ওপর থেকে৷ দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ চোখে পড়ে কার্তিকবাবুর৷ ছেলের শোকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন স্ত্রী বুঝতে দেরি হয়নি তার। তবে দেরি না করে স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় খামতি রাখেননি, দ্রুত নিয়ে যান জগদীশপুর ব্লক হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্ত্রীর এরকম মর্মান্তিক প্রয়ানে হতবাক গোটা পরিবার৷ ছেলের শোকে আবেগ তাড়িত হয়ে এরকম সিদ্ধা্ত নিয়ে নেবেন স্ত্রী, সে কথা এখনও বোধগম্য হয়ে উঠছে না কার্তিকবাবুর৷ আর একটু কি অপেক্ষা করা যেত না, এই প্রশ্নই এখন মৃত মিঠুদেবীর গোটা পরিবারের চোখে মুখে ঘুরছে৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দাশনগর থানার পুলিশ। মৃতদেহটিকে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। পরিবারের দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা কার্তিকবাবু ও গোটা পরিবার। পরে অবশ্য ছেলে ফিরেছে, কিন্তু মা তখন চির নিদ্রায় পরলোকে৷ মর্মান্তিক এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে হাওড়ার চামরাইলের বাসিন্দাদের৷ আর কার্তিকবাবুর চোখে মুখে শুধু এখন একটাই আফশোস! ছেলে যদি একটু আগে ফিরত তাহলে হয়তো, মিঠুদেবীতে এভাবে সংসার খালি করে অকালে চলে যেতে হত না৷

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here