রাজ্যের রক্ষকের ওপর হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে: অধীরের

0
94

নিজস্ব প্রতিবেদক, বহরমপুর: আয়কর আধিকারিকেরা ‘কর সন্ত্রাস’ হয়ে গিয়েছেন। তারা ‘কর সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে’। বাংলার পুজো নিয়ে আয়কর দফতরের হিসেব চাওয়ার প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। একইসঙ্গে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘দুর্গাপুজোর আগেই পুজো কমিটিগুলির থেকে হিসেব চাওয়া হচ্ছে। এর পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।’

দুর্গাপুজো বাংলার আত্মা। বাংলার সর্ব ধর্মের মানুষের উত্সব। এভাবে আয়কর নিয়ে পুজোগুলির আড়ম্বরতা নষ্ট করা উচিত নয় দাবি জানিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘বাংলার মানুষ তাদের টাকা উজাড় করে মণ্ডপ তৈরি করে। এটা নতুন ঘটনা নয়। যুগ যুগ ধরে এটা হচ্ছে। চোরাই পয়সায় পুজো হয়- এমন ভাবা ঠিক নয়। এভাবে উত্সবের বাতাবরণ নষ্ট করা ঠিক নয়। এর তীব্র প্রতিবাদ করব।’ গত দু’বছর ধরে যেভাবে পুজো কমিটিগুলির থেকে হিসাব নেওয়া হচ্ছে, তার পিছনে বাজে অভিসন্ধি রয়েছে বলেও মনে করেন কংগ্রেস সাংসদ। ইদানীংকালে আয়কর দফতর যেভাবে বাংলার পুজো কমিটি থেকে শুরু করে ক্যাফে কফি ডে-র মালিকদের কর নিয়ে চাপ দিচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা করেন অধীর চৌধুরী। এপ্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকেও পরোক্ষে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আয়কর দফতরের কর সংগ্রহ কমে গিয়েছে। বেশি টাকা আদায় করার চাপ পড়েছে। তাই কর আধিকারিকেরা কর সন্ত্রাসের জন্ম দিচ্ছে। তারা কর সন্ত্রাস হয়ে গিয়েছে।’ তবে এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাবেন বলেও সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।

আয়কর দফতরের পাশাপাশি ভারতের অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। তিনি বলেন, ‘ভারতে চাকরি নেই, শিল্প নেই, শিল্পের বৃদ্ধি হচ্ছে না, বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। শিল্পের জন্য ব্যাঙ্ক সস্তায় ঋণ দিতে চাইলেও কেউ নিচ্ছে না। ভারতের অর্থনীতি একেবারে বিপন্ন। অথচ এসব নিয়ে, সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের কোনও চিন্তা নেই। দলের প্রচারের সমস্যাগুলির দিকেই তাদের নজর।’ অর্থনৈতিক দুরবস্থা, কৃষক আত্মহত্যা থেকে চোখ ঘোরাতেই কেন্দ্রীয় সরকার রাম মন্দির, সকলের জন্য আইন, ৩৭০ ধারা বিলোপের মত কাজে তত্পর বলেও মন্তব্য করেন অধীর।

এদিন কেবল আয়কর দফতর বা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেই থেমে থাকেননি অধীর। রাজ্যে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। আলিপুরের পর টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে ঢুকে মহিলারা যেভাবে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে, তার কড়া নিন্দা করেন অধীর। যারা রাজ্যের রক্ষক, তাদের উপরই যদি হামলা চলে তাহলে বাংলার সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপত্তা পাবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here