kolkata news bengali

Highlights

  • হাসপাতালে পুলকার দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি চলছে, বিস্ফোরক লকেট
  • সামান্য স্থিতিশীল দুই ছাত্র
  • গতি বাড়াতে স্পিড লিমিটের তার খোলার অভিযোগ

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার হুগলীর পোলবায় পড়ুয়া বোঝাই এক পুলকার নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। ১৫ জন শিক্ষার্থী বোঝাই ওই গাড়ির চালক সহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়। ৪ জন ছাত্রকে চুঁচুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২ ছাত্রকে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয় গ্রিন করিডোর ব্যবস্থার মাধ্যমে। এদিকে এই অবস্থায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুগলীর বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ করেন, হাসপাতাল নামেই ‘সুপার স্পেশ্যালিটি’, আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে, বারবার পুলকার বদল হয় বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়, রাজনীতি করে হাসপাতালে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। বলেন, তৃণমূলের সকলে ঢুকে রাজনীতি করছে। শুধু তাই নয়, বেআইনি রাস্তা ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়ির গতিবেগ বাড়ানোর জন্য খুলে রাখা হয়েছিল স্পিড লিমিটের তার। তাই জোরে ব্রেক কষলেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। অভিযোগ, ওই চালকের লাইসেন্স নেই।

যে ২ ছাত্রকে ( দিব্যাংশু ভগত ও ঋষভ সিং) আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএমে নিয়ে এসে ৭ জন চিকিৎসক নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা করা হচ্ছিল, তাদের দুজনের জ্ঞান ফিরেছে। ট্রমা কেয়ার ইউনিট থেকে জানানো হয়েছে, দুজনের মাথাতেই রয়েছে গুরুতর আঘাত। ভেঙেছে পাঁজরের হাড়।

বিজেপি সাংসদ লকেট ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, জেলায় জেলায় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল হয়েছে বলা হয়। তাহলে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা করা গেল না কেন? অভিযোগ তুলে বলেন, সাংসদ তহবিলের টাকা থেকে হাসপাতালকে আর্থিক সাহায্যের কথা আগে বারবার বললেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রাহ্য করেনি। এমনকি পুলকার নিয়ে স্কুলের আরও সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল বলেও দাবি বিজেপি সাংসদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, দুই পড়ুয়া আপাতত স্থিতিশীল। ভেন্টিলেশনের পর এক্সট্রা-কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। ঋষভের ফুসফুস থেকে অস্ত্রোপচার করে কাদা-জল বের করা হয়েছে। ২ পড়ুয়া পুরোপুরি বিপ্নমুক্ত নয় জানালেও চিকিৎসকরা আশাবাদী। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, কম্যাণ্ড ফলো করছে দুই ছাত্র। আরও জানানো হয়, কৃত্রিম পদ্ধতিতে ফুসফুস এবং হৃদযন্ত্র কাজ করছে। তবে এও জানানো হয়েছে, এক ছাত্রের মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চালক সুস্থ হয়ে উঠলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। গতি বাড়াতে স্পিড লিমিটের তার খুলে রাখার ফলেই পুলকার নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি বলে দাবি পুলিশের। দাবি করা হয়, এই জন্যই জোরে ব্রেক কষলেও তা ডিভাইডারে ও ক্রাশ বেরিয়ারে পরপর ধাক্কা লেগে নয়ানজুলিতে উল্টে পড়ে।

এই তথ্য উঠে আসার পরেই অভিভাবক, স্থানীয় ও শিক্ষা দফতর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিজেপিও সরব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here