kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিংবদন্তী বাবা প্রয়াত হয়েছেন আগেই। থাকার মধ্যে ছিল তাঁর টুকরো টুকরো স্মৃতি। মৃণাল সেনের সেই স্মৃতির সিংহভাগই ছেলে কুণাল তুলে দিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে। বাবার স্মৃতি বলতে মাত্র তিনটি কার্ডবোর্ডের বাক্স সঙ্গে রাখলেন কুণাল।

ছেলে কুণাল বিদেশে থাকলেও, আজীবন কলকাতায় থেকেছেন মেঘে ঢাকা তারার পরিচালক। কলকাতার ছোট্ট বাসায় বসেই তৈরি করেছেন মৃগয়ার মতো একের পর এক কালজয়ী চলচিত্র। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবীদেরও ভাবিয়ে তুলত তাঁর ‘কাজ’। নিখুঁত যত্নে যেসব ছবি তিনি নির্মাণ করেছেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সেগুলি তুলে রাখতে যত্নবান হননি কখনও। তবুও যেসব নথিপত্র, নমুনা খুঁজে পেয়েছেন, সেগুলি মৃণালবাবুর ছেলে তুলে দিলেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে। তার পরেই আবেগতাড়িত কুণাল ট্যুইটে লেখেন, হয় নস্টালজিয়ার প্রতি ওঁর গভীর অবিশ্বাসের কারণে, কিংবা অলসতার কারণে তিনি কোনও নথিরই যত্ন নেননি। তিনি তাঁর জীবনকালে সমস্ত চিঠিপত্র, সমস্ত চিত্রনাট্য, সমস্ত পাণ্ডুলিপি ফেলে দিয়েছিলেন। সুতরাং অবশেষে আমি যা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম, তা খুব সামান্য ছিল-আমাদের মধ্যে কিছু চিঠিপত্র, একগুচ্ছ ফটোগ্রাফ এবং তাঁর কিছু পুরস্কার।

তিনি লিখেছেন, এখন থেকে ব্যক্তিগত সংগ্রহে বাবার যে সমস্ত জিনিস ছিল এখন তা সবই অন্য একটি সংস্থার হেফাজতে। কখনও যদি বাবার স্মৃতিচিহ্নগুলি দেখার ইচ্ছে হয়, এখন থেকে আমাকেও চিঠি দিয়ে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তার পর সাদা গ্লাভস পরে সেগুলি ছুঁয়ে দেখার অনুমতি পাব।

প্রয়াত মৃণাল। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রয়ে গেল তাঁর কাজ। একশো, দুশো কিংবা তারও পরের কোনও এক গবেষক লাইব্রেরির চেয়ারে বসে পাতা ওলটাবেন মেঘে ঢাকা তারা, মৃগয়া কিংবা অন্য কোনও চলচিত্রের চিত্রনাট্যের ধূসর পাণ্ডুলিপির পাতা।       

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here