‘তুই মর’! শোভনের ফোন থেকে মেসেজ পেয়ে রত্না লিখলেন, ‘শকুনের অভিশাপে গরু মরে না’

0
kolkata bengali news

রাজেশ সাহা, কলকাতা: ভাইফোঁটা পরবর্তী সময়ে ফের খবরের শিরোনামে শোভন-বৈশাখী ও রত্না। ফের দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা। তবে এবার এক কদম এগিয়ে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, ভাইফোঁটার দিন বিকেলে শোভনের ফোন থেকে রত্নাকে একাধিক অশালীন মেসেজ পাঠানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে পর্ণশ্রী থানায় জেনারেল ডায়েরি করেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।

ঘটনার সূত্রপাত ভাইফোঁটার দিন বিকেলে। রাজ্য রাজনীতির সকলকে চমকে দিয়ে সেদিন কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়িতে বান্ধবী বৈশাখীকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের কানন। অভিযোগ, সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরেই রত্না চট্টোপাধ্যায়ের হোয়াটসঅ্যাপে শোভনের নাম্বার থেকে তিনটি মেসেজ আসে। রত্নার ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসেজ গুলিতে লেখা ছিল, “সত্যের জয় হলো, বৈশাখীর সম্মানের জন্য লড়লাম তো? এবার আমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দাও”। জানা গিয়েছে, এরপরেই রত্না চট্টোপাধ্যায় পাল্টা উত্তরে লিখেন, “সে গুড়ে বালি, কিছুতেই তোমাকে মিউচুয়াল ডিভোর্স দেবো না”। এরপর শোভনের নম্বর থেকে মেসেজ আসে, “তবে তুই মর”। পাল্টা উত্তরে রত্না লেখেন, “শকুনের অভিশাপে গরু মরে না”। এই ভাবেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। অভিযোগ, বচসায় জড়াতেই শোভনের নাম্বার থেকে একাধিক অশালীন মেসেজ আসতে শুরু করে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান শোভন-পত্নী। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, এই ধরনের অশালীন ম্যাসেজ হয়তো সরাসরি শোভন তাঁকে পাঠাননি। এক্ষেত্রে নাম না করে তাঁর ইঙ্গিত শোভন বান্ধবী বৈশাখীর দিকেই। ফের দলনেত্রীর কাছে আসার আনন্দে আত্মহারা হয়ে শক্তি প্রদর্শন করতেই তিনি শোভনের ফোন থেকে রত্নাকে গালিগালাজ করেছেন বলে ঘনিষ্ঠমহলে সন্দেহ প্রকাশ করেন রত্না। জানা গিয়েছে, এরপরই ক্ষুব্দ হয়ে কালীঘাটে দলনেত্রী বাড়িতে চলে যান শোভন পত্নী। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখান মোবাইলের মেসেজগুলি। সূত্রের খবর, মেসেজগুলো দেখার পর ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রীর নিজেও।

স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে বিচ্ছেদের মামলা চলছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। আইনজীবীর পরামর্শ মেনেই পর্ণশ্রী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। যদিও রত্নার অভিযোগ শুনে বেজায় চটে যান শোভন-বৈশাখী দুজনেই। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে মহানগরের তরফে শোভনকে ফোন করা হলে তিনি জানান, “যেদিন রত্নাকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেই সময় থেকেই তার নাম্বার ব্লক করে দিয়েছিলাম। তারপর থেকে আমার তরফে রত্নার ফোনে কোন মেসেজ চালাচালি হয়নি”। তবে বিশেষ সূত্রের খবর, চলতি বছর দুর্গা পুজোর অষ্টমীর দিন শোভনকে নিজের মেয়ের তিনটে ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন স্ত্রী রত্না। ঘনিষ্ঠমহলে রত্না জানিয়েছেন, সেই মেসেজ সিনও করা হয়েছিল শোভনের তরফে। যদিও তার কিছুক্ষণ পরেই রত্নার নাম্বারটি ব্লক করে দেওয়া হয় বলে দাবি। তবে প্রশ্ন উঠছে, রত্নার নাম্বার বছরখানেক ধরে যদি ব্লক থাকে, সেদিন তাহলে কী করে ঢুকলো মেয়ের ছবি? উত্তরে মেয়ের ছবি আসার কথা স্বীকার করে নিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ব্লকড নাম্বার থেকে মেসেজ আসায় আমিও অবাক হয়ে যাই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করি আইফোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তাদের পরামর্শেই নাম্বারটি একবার আনব্লক করে পুনরায় ব্লক করে দিই”।

তাহলে ঠিক কী ঘটেছিল ভাইফোঁটার দিন বিকেলে? রত্না চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের উত্তরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও মনগড়া। শোভনবাবুর ফোন থেকে কোন অশালীন মেসেজ যায়নি বরং সেদিন রত্না চট্টোপাধ্যায় নিজেই শোভনবাবুকে একাধিক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন, যা দেখে তিনি চরম ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়েছিলেন।” তবে তাই হলে আপনারা থানায় গেলেন না কেন? উত্তরে বৈশাখী বলেন, “সেদিনই বিষয়টি তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে এনেছিলাম। তাদের পরামর্শেই এটা নিয়ে অযথা শোরগোল না করে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম”। মহানগরকে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কালিমালিপ্ত করতেই এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছেন রত্না। এগুলো চলতে থাকলে আইনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবো”। কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলে রত্নার সন্দেহের তীর তো স্বামী নয়, বরং তাঁর বান্ধবী বৈশাখীর দিকে! প্রশ্ন শুনে বৈশাখীর সহাস্যে মন্তব্য “উনি কিন্তু বেশ ভালো গল্প বলতে পারেন”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here