ঝাড়গ্রাম: দরজায় কড়া নাড়ছে পঞ্চায়েত ভোট৷ মনোনয়ন ঘিরে নজিরবিহীন সন্ত্রাস,রক্তারক্তি চলছে গোটা রাজ্য জুড়ে৷ এমন পরিস্থিতিতে যখন আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে ভোট,ঠিক তখনই জঙ্গল মহলে আচমকাই হাজির বিজেপি নেতা মুকুল রায় ৷ বুধবার তিনি আসেন ছত্রধর মাহাতো ও চিতামণি মুর্মূর বাড়ি৷ তবে বাড়িতে ছিলেন না ছত্রধরের স্ত্রী ও ছেলেরা৷ ছিলেন না চিতামণিও৷
পরিবারের বাকিদের মমতা-পার্থ-ছাত্রধরদের পুরনো ছবি দেখিয়ে পুরনো দিনে ছাত্রধরকে ব্যবহার করার কথা মনে করিয়ে দিলেন একদা মমতা সঙ্গী বিজেপি নেতা মুকুল রায় ৷ জানালেন, “ মায়া মমতা থাকলে তৃণমূলের উচিত ছত্রধরকে কালকেই জেল থেকে বের করা,এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা লাগলে করবে ৷” ছাত্রধরের মা বললেন “ প্রতি ভোটের আগেই নেতাদের এমন বলতে শুনি,আপনারাও দেখেছেন সে ঝামেলা ৷ তার পরে কাউকেই পাওয়া যায় না ৷”

 

কয়েকদিন আগেই লালগড়ের আমলিয়া গ্রামে ছত্রধর মাহাতো-র বাড়িতে বিজেপির পক্ষ থেকে নেতারা গিয়েছিলেন ৷ ছত্রধরের পরিবারকে জানিয়েছিলেন -বুধবার বাড়িতে সকলেই যেন থাকে ৷ রাজ্য বিজেপির নেতারা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে আসবেন ৷ একই ভাবে ছোটপেলিয়া গ্রামে চিতামণি মুর্মূর বাড়িতেও গিয়েছিলেন ৷ এদিন ছত্রধরের মাটির বাড়িতে ঢুকে মা বেদনাবালা মাহাতোর সঙ্গে ও ছত্রধরের ভাই অনিল মাহাতোর সঙ্গে প্রায় পনেরো মিনিট আলাদা ভাবে কথা বলেন ৷ কথা বলার সময় বেশ কিছু ছবি দেখান পরিবারের লোকজনকে ৷ এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে মুকুল রায় সাংবাদিকদের সামনে নিজের উপস্থিতির কারণ নিয়ে বলেন ৷ তিনি বলেন “পরিবর্তনের একসময়ের লড়াইয়ে যারা ছিল, যাদের ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ৷ আমি তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি ৷ ”
এরপর সংবাদ মাধ্যমের সামনে বেশ কিছু ছত্রধর-মমতা, ছত্রধর -পার্থ -এর যুগ্ম ছবি দেখান ৷ যা ২০১০ এর সময়ে অস্থির জঙ্গলমহলের পরিস্থিতিতে মমতা বন্দোপাধ্যায়রা এসে সভা করার সময়ে তোলা ৷ সেগুলিকে দেখিয়ে মুকুল বলেন “যার হাত ধরে জঙ্গলমহলে ঢুকে ছিলাম সে আজ জেলে ৷ আমিও তৃণমূল করতাম সেই সময় ৷ যার সঙ্গে কানে কানে কথা বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরে আন্দোলন শুরু করলেন,যাকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলে পা রাখলেন, সেই ছত্রধর ৮ বছর জেলে ৷ ক্ষমতায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার ৷ আগামী ৭ দিনের মধ্যে ছত্রধরকে জেল থেকে বের করে দিক ৷ সেই ক্ষমতা ওঁর রয়েছে ৷ আট বছর ধরে এই পরিবার যেভাবে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে, তাকে স্যালুট করা ছাড়া রাস্তা নেই ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রই হল যাঁদের হাত ধরে ক্ষমতায় আসবেন, তাদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ৷ চিতামণির মুর্মূর চোখটা যে পুলিশ অফিসার নষ্ট করেছিল,তাকে মমতা কমিশনার বানিয়ে দিয়েছেন ৷ দাবি করছি – মায়া মমতা থাকলে তৃণমূলের উচিত ছত্রধরকে কালকেই জেল থেকে বের করা,এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগীতা লাগলে করবে ৷”
তবে চিতামণির বাড়িতে গেলেও তাঁর দেখা না পেয়ে ফিরতে হয়েছে মুকুল রায়কে ৷ তবে এতে রাজনীতিই দেখছে পোড়খাওয়া ছত্রধরের পরিবার ৷ ছত্রধরের ভাই অনিল মাহাতো বলেন “দাদার মামলার ব্যাপারে জানতে চাইছিলেন , যা আমার কিছু জানা নেই ৷ আসলে ভোট এলে সব নেতা নেত্রীই এখানে আসেন ৷ যেমন ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বলেছিল ক্ষমতায় এলে সমস্ত জঙ্গলমহলের বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হবে ৷ কিন্তু ৮ বছর হয়ে গেল সেই সরকারের,একজনই বেরোন নি ৷ উল্টে ইউএপিএ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ৷ আসলে ভোট এলে নেতারা আসেন, না হলে কেউই আসেনা ৷” বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে-পঞ্চায়েত নির্বাচনে ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তি মাহা্তোকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল শাসকদল ৷ তাতে রাজি হন নি তিনি ৷ সেই বিরোধী মানসিকতাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল বিজেপিও ৷ তবে সেই সুবিধেও খুব একটা হয় নি এদিন ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here