kolkata bengali news

ডেস্ক: ব্রিগেড বলে কথা, রাজ্যের সবচেয়ে বড় জমায়েতি ময়দান। যা ভরাতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয় শাসক দলকেও। অন্তত তিন মাস আগে থেকে শুরু করতে হয় প্রচার, বক্তা তালিকায় রাখতে হয় দলের সেরা সেরা তুখড় বক্তাদের নাম। এহেন ব্রিগেড ভরানোর দুঃসাহসিক চেষ্টায়, মোদীকে সামনে রেখে বুধবারের বিজেপির ব্রিগেড ভরেছিল বেশ ভালোই। সেখানে উপস্থিতও ছিলেন রাজ্য বিজেপির ছোট বড় থেকে মাঝারি নেতারা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে ব্রিগেডের মতো মহামঞ্চে অনুপস্থিত রাজ্য বিজেপির বর্তমান হেভিওয়েট নেতা মুকুল রায়। যা নিয়েই শুরু হল জল্পনা।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মুকুলের একের পর এক কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট খুশি কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি এককালে তাঁকে শেষ পাতের চাটনি বলে উল্লেখ করলেও এখন আর ওসব কথা মুখেও আনেন না, বরং মুকুল প্রশংসায় সর্বদা পঞ্চমুখ তারা। রাজ্যে বিজেপির এহেন বাড়বাড়ন্তে মুকুলের ভূমিকা যে বিরাট তা একবাক্যে স্বীকার করে নেন প্রত্যেকেই। ব্রিগেডের মহাযজ্ঞে আজ সেই মুকুল অনুপস্থিত এতো কখনই ছোটখাটো বিষয় হতে পারে না। তবে ব্রিগেডের মঞ্চে না থাকলেও মুকুলকে কিন্তু দেখা গিয়েছে মোদীর পাশেই শিলিগুড়িতে। বিজেপি নেতৃত্বের কথা মেনে সেখানে বক্তব্যও রেখেছেন তিনি। তবে ব্রিগেডের মতো হাইভোল্টেজ জায়গা ছেড়ে তুলনামূলকভাবে শিলিগুড়ির ছোট মঞ্চে তাঁকে রাখায় রীতিমতো অখুশি মুকুল অনুগামীরা। রাজ্য বিজেপিতে মুকুল কি তবে কাজের বেলা কাজি ও কাজ ফুরালে পাঁজি ধরণের কোনও জায়গা নিয়ে রয়েছে। এই ধরণের প্রশ্নই এখন তুলে শুরু করেছেন মুকুল অনুগামীরা। যদিও বিজেপি কিন্তু সে কথা মানতে বিন্দুমাত্র নারাজ। বরং বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, বাংলায় আজ একত্রে দুটি ব্রিগেড হয়েছে একটি কলকাতায় ও অন্যটি শিলিগুড়িতে। কলকাতার দায়িত্বে অন্যান্য বিজেপি নেতারা থাকলেও, মুকুলকে দেওয়া হয়েছিল শিলিগুড়ির দায়িত্ব। এবং নিজের দায়িত্ব সফল ভাবেই পালন করেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, গতকাল মেদিনীপুরের সভায় ছিলেন মুকুল রায়। সেখান থেকে রাতেই শিলিগুড়ি পৌঁছন তিনি। শিলিগুড়িতে সকাল থেকে সেখানে মোদীর সভার সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেন মুকুল।

এদিকে মুকুল অনুগামিদের ক্ষোভ, শিলিগুড়ির সভায় মুকুল ছিলেন সে ভালো কথা। তবে ব্রিগেডের মতো বড় সভায় তাঁর না থাকাটা বিজেপির জন্য ভালো বার্তা নয়। আদি বিজেপির বিরুদ্ধে এই ধরণের কাজকে বৈমাতৃসুলভ আচরণ হিসাবেই দেখছে দলত্যাগী মুকুল অনুগামী বিজেপি নেতারদের অনেকেই। পাশাপাশি, বিজেপির অন্দরে কান পাতলে এটাও শোনা যাচ্ছে, মুকুলের একান্ত ইচ্ছে ছিল ব্রিগেড সভায় উপস্থিত হওয়ার। কিন্তু দলের তরফে তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয় শিলিগুড়ির দায়িত্ব। তবে সে আদেশ মেনে নিলেও, খুশি মনে তা মানেননি মুকুল। মুকুলের ব্রিগেডে না থাকা নিয়ে ক্ষোভ জমেছে দলের অনেক ছোট বড় নেতার অন্দরেও। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন শিলিগুড়িতে মোদীর সঙ্গে হেলিকপ্টারে ব্রিগেডে আনা যেতে পারত মুকুলকে। তা না করে মুকুলকে ব্রিগেড থেকে একরকম তাড়িয়ে দেওয়ায় বিজেপিতে নিজেদের অবস্থান নিয়ে ফের একবার ভাবনা চিন্তা করতে শুরু করেছে বিজেপির মুকুল বাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here