ডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। সিআইডি তদন্তের জালে জড়িয়ে আপাতত নাকানি-চোবানি খাচ্ছেন এই আইপিএস। কিন্তু সমস্যা কমা দূর অস্ত, আরও বেড়েই চলেছে তাঁর জন্য। বিতর্কিত আইপিএসকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক উক্তি করলেন মুকুল রায়। হাইকোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে এবার মুকুলের দাবি, ভারতী ঘোষ নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন না।

সবং বিধানসভা নির্বাচনের পরই খাঁড়া নেমে এসেছিল ভারতীর উপর। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ভারতী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘জঙ্গলমহলের মা’ বলেও অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্কে লাগাতার চিড় ধরতে থাকে এবং সবং বিধানসভা উপনির্বাচনের পর ব্যারাকপুরে তাঁকে বদলি করা হলে তিনি স্বেচ্ছাঅবসর নেন। সবংয়ে বিজেপির ভোট উত্থানের কারণ হিসাবে ভারতীর তলেতলে মুকুলকে সাহায্য করার অভিযোগ অনেক আগেই তোলা হয়েছিল শাসকদলের তরফে। কারণ একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসাবে পরিচিত মুকুল রায়ই জেলায় জেলায় প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক দিকগুলি দেখভাল করতেন। সেই সূত্রে প্রত্যেক জেলার পুলিশ প্রশাসনের নাড়ি-নক্ষত্রের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তিনি। সেই তালিকায় যেমন ভারতী ঘোষ ছিলেন, তেমনই ছিলেন রাজীব কুমার, সুরজিৎ পুরকায়স্থ প্রমুখ।

কিন্তু মুকুল রায় এখন দাবি করছেন যে ভারতী নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন না, বরং তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ হাইকোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে মুকুল বলেন, ”আমি রাজ্যে সবথেকে বেশি পুলিশ করেছি। সবচেয়ে বেশি আমার সঙ্গে কথা হয়েছে রাজীব কুমারের। ডিজিপি সুরজিৎ পুরকায়স্থর সঙ্গেও আমার প্রচুর কথা হয়েছে। তার মানে তো এটা নয় যে তাঁরা আমার ঘনিষ্ঠ। ভারতী ঘোষ আমার ঘনিষ্ঠ ছিলেন না। ভারতী মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই হচ্ছে সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি। কাজ শেষ হয়ে গেলেই তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। বিমল গুরুঙ্গের ক্ষেত্রেও একই করা হয়েছে। যাকে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনও খবর, সিআইডির জালে ইতিমধ্যেই ফেঁসে থাকা ভারতী বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মুকুল ভারতী ঘোষকে নিয়ে সেফ গেম খেলার চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যতে রাজ্যের গেরুয়া শিবিরে ভারতী যদি যোগ দিতে সেই ক্ষেত্রে যাতে কোনও অসুবিধা না তৈরি হয় সেই রাস্তাও সাফ রাখছেন মুকুল রায়। তিনি মুখে অস্বীকার করলেও রাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগকে মুকুলকে হাতের তালুর মতোই চিনতেন সেই কথাও সকলেরই জানা। ফলে ভারতীকে আড়ালে রেখে মুকুলের এই মন্তব্যকে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে সেই কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here