ডেস্ক: কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলেন মুকুল রায়। ফোন করা হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকেও। নির্বাচনের প্রাক্বালে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের এই জোড়া ফোনে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। যদিও মুকুলের এই ফোনকে নেহাতই ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অধীর। এই ফোন কলের মধ্যে নাকি লুকিয়ে নেই কোনও রহস্য। নেহাতই সম্পর্কের খাতিরে। মুকুল না হয় আগে অধীরের বাড়িতে গিয়েছিলেন, কথাও হয়েছে এর আগে। কিন্তু দীপাকে কেন ফোন করতে গেলেন মুকুল? এও কি নেহাতই ‘সম্পর্ক’-এর খাতিরে। তা মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। বরং বঙ্গে দাঁত ফোটানোর উদ্দেশ্যে মুকুলের এই ফোন বলে ধারনা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

আপাতত ভারতীয় জাতিয়ে কংগ্রেসের নেত্রী বলে পরিচিত প্রয়াত নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর স্ত্রী দীপা দাশমুন্সী। আসন্ন ২০২০ রাজ্যসভায় তাঁকে কংগ্রেসের তরফ থেকে মনোনীত করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন সভাপতি রাহুল গান্ধী। মাঝে রয়েছে অনেকটা সময়। আর রাজনীতির ভোল বদালতে আর কতক্ষণই লাগে! রাতারাতি বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি, বদলে যেতে পারে নেতা-নেত্রীর পতাকার রঙ। যেমন হয়েছিল মুকুল রায়ের ক্ষেত্রে। তাই হেভিওয়েট কোনও নেতা নেত্রী নিজের পথ পরিবর্তন করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সম্প্রতি রাজ্য বামদের সঙ্গে কংগ্রেস জোট সম্ভাবনা বেড়েছে অনেকটাই। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে দীপাকে। দীপা বেঁকে বসলে, বদলে যেতে বাম-কং নির্বাচন রফা। দুই দলের জোট না হলেও রাজ্য বিজেপির পথ অনেকটাই মসৃণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বামেদের হটিয়ে বঙ্গে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। ক্ষমতায় না আসা যাক, নিদেন পক্ষে সেই জায়গাটা ধরতে রাখতে চাইবে গেরুয়া শিবির। এরপরেও নেহাতই সম্পর্কের খাতিরে ফোন!

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে অধীরের বাড়িতে নৈশভোজের আমন্ত্রন রয়েছে মুকুল রায়ের। পরিকল্পনা স্পষ্ট আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে অধীরকে বিজেপিতে আনা। এবং লোকসভায় দাঁড় করানো। আর এই কাজটি বিজেপি যদি করতে পারে তবে বিজেপির শক্তি যে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। জানা যাচ্ছে বহরমপুর থেকে আসন্ন লোকসভায় প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হবে অধীরকে। যদিও মুকুল রায় ও অধীর চৌধুরী দুজনেই এই নৈশ ভোজকে নিতান্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি করেছেন, তবে জল্পনা কিন্তু কাটছে না। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরেই একটি জল্পনা চলছিল হয়ত অধীর বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। আর যদি তিনি যোগ দেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই।

কারণ, এই মুহূর্তে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ যাওয়ার পর, কংগ্রেসে থেকেও তিনি কেমন নেই নেই। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের সঙ্গে তাঁর বিরোধও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এদিকে তৃণমূলের উপর সবচেয়ে বিরক্ত কংগ্রেসের কোনও নেতা যদি থেকে থাকেন তিনি অধীর। আর ঠিক সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে তৈরি মুকুল রায়। উদ্দেশ্য অধীরকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুকুলের নিরন্তন চেষ্টায় রাজ্য বিজেপির যে কিছুটা উন্নতি ঘটেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল থেকে একে একে বিধায়ক ও সাংসদ ভাঙিয়ে এনেছেন তিনি। মুকুলের শেষ তম টার্গেট বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। শুক্রবার রাতে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকও করেছেন মুকুল এর পরই জল্পনা ছড়িয়েছে এবার হয়ত সব্যসাচী যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। এরই মাঝে এবার কংগ্রেসেও যে চুপিসাড়ে তিনি হাত বাড়িয়েছে এবং একেবারে হাইভোল্টেজ জায়গায়। ফলে তৃণমূলের পাশাপাশি চিন্তা বাড়ল কংগ্রেসেরও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here