ডেস্ক: সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের৷ একের পর এক মালার জালে ফাঁসছেন তিনি৷ এবার রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা মামলায় পুলিশি জেরার মুখে পড়তে চলেছেন মুকুল৷ তিনি যখন যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর নামকে কাজে লাগিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিল সৃজন রায়৷ যিনি মুকুল রায়ের শ্যালক৷ প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্য সৃজন রায়কে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ বিচারক মুকুল রায়ের শ্যালকে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন৷ আর তদন্তের স্বার্থে এই সময়টাকে কাজে লাগাতে মরিয়া পুলিশ৷ তদন্তকারীরা চাইছেন ‘কান টেনে মাথা আনতে৷’ অর্থাৎ, এই প্রতরাণ সঙ্গে মুকুল রায় কোনও ভাবে যুক্ত ছিলেন কি না, সেটা সৃজন রায়কে জেরা করতে জানতে চাইবে পুলিশ৷ অভিযোগকারীরা বীজপুর থানায় সৃজন রায়ের পাশাপাশি মুকুল রায়ের নামেও অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন৷ সেটাই খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারীরা৷

শ্যালক সৃজন রায় গ্রেফতার হওয়ার পর প্রতারণা মামলায় মুকুল বেশ ব্যাকফুটে থাকলেও, আদালতের নির্দেশে সাময়িক একটা স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি৷ আদালত জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতেই পারে, কিন্তু আগামী ১৬ মে পর্যন্ত তাঁকে এই মামলার জন্য কোনওভাবে গ্রেফতার করা যাবে না। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি শিবকান্ত প্রসাদ নির্দেশ বলেন, মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ১৬ মে। ওই শুনানির আগে মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তদন্তকারীরা অফিসাররা যদি মনে করেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন, জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারেন।

এদিন হাইকোর্টে সওয়াল-জবাব পর্বে মুকুল রায়ের আইনজীবী দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে৷ এফআইআর-এ নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়ে মুকুল রায়ের৷ সরকার পক্ষের আইনজীবী পাল্টা জানান, এই প্রতারণা মামলায় তদন্তের স্বার্থে মুকুল রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন৷ দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর বিচারপতি শিবকান্ত প্রসাদ বলেন, মুকুল রায়কে পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না৷ তবে তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতেই পারে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here