ডেস্ক: বাংলা মিডিয়া জগতে একটা কথা খুবই প্রচলিতভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ‘এটা খাবে।’ অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট সেই সংবাদকে পাঠক বা দর্শক লুফে নেবেন। মুড়ি মুড়কির মতো বিকোবে সেই খবর। বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের শেষ পর্বে যে প্রশ্নটি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তাও অনেকটা এই রকমেরই। তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায় কি তবে শুধু পাঠক বা দর্শকদের ‘খাবার’ই হয়ে গেলেন?

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যে বিজেপির পেশি আস্ফালনের ছবি সুস্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে, মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ফলেই এই উত্থান হচ্ছে বিজেপির? মুকুলপন্থীদের মত, তাঁর যোগদানেই ক্রমশ ভোলবদল হচ্ছে রাজ্য বিজেপির। কিন্তু এই পঞ্চায়েত ভোটের আগাম ফল পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, যে জেলাগুলিতে বিজেপি ইতিবাচক ফল করেছে, সেই প্রবণতা আগে থেকেই ছিল।

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল এলাকা, বাঁকুড়া ও আলিপুরদুয়ারের মতো জায়গাগুলিতে ইতিবাচক ফল করেছে বিজেপি। তাই এর কৃতিত্ব মুকুলকেই দিতে চাইছেন তাঁর অনুগামীরা। পাশাপাশি তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ দেওয়ার জন্যও অনেকেই দাবি তুলছেন। কারণ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পঞ্চায়েতের আগে ছুটে বেড়িয়েছেন ‘চাণক্য’। কিছু মুকুল বিরোধীদের মত আবার অন্য। তারা বলছেন, যেখানে যেখানে বিজেপি ভাল ফল করেছে তা বিজেপির সংগঠনমূলক কাজের জন্য। গেরুয়া বিজ ফলনের জন্য সেখানকার মাটি আগে থেকেই চষে রাখা হয়েছিল। ভাল ফলের জন্য সেখানে মুকুলের আলাদা করে কোনও কৃতিত্ব নেই। বরং যেমন রণডঙ্কা বাজিয়ে আশা জাগিয়ে মুকুল বিজেপিতে এসেছিলেন, আশানুরূপ তেমন কিছুই করতে পারেন নি।

একই সুর মুকুলের এককালীন ছায়া শিষ্য নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকেরও। তৃণমূলে থাকার সময় মুকুলের ঘনিষ্ঠ অনুরাগী হিসাবে পরিচিত ছলেন তিনি। মুকুল রায় প্রসঙ্গে পার্থবাবু বলেন, ওনার গুরুত্ব কেবল সংবাদ মাধ্যমের কাছে। মানুষের কাছে ওঁর কোনও গুরুত্ব নেই। বলে রাখা ভাল, মুকুলের হাত ধরেই রাজনীতিতে পদার্পণ পার্থ ভৌমিকের। এখন তিনিই বলছেন, মুকুলের আর কোনও গুরুত্ব নেই মানুষের মধ্যে। পার্থবাবুর এই মন্তব্যকে যদি আমল নাও দেওয়া হয়, তা সত্ত্বেও মুকুল রায়ের কার্যকারিতা ঠিক কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর উল্লেখযোগ্য কোনও সাংঘাতিক পরিবর্তন আনতে পারেন নি তিনি। কারণ, নগণ্য কয়েকটি পঞ্চায়েত সমিতি বাদ দিলে, জেলা পরিষদে হাতই ছোঁয়াতে পারেনি মুকুলের দল। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি সংবাদ মাধ্যমের ‘খাবার’ই হয়ে গেলেন মুকুল রায়?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here