ডেস্ক: আসন্ন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই ঘর গোছাতে শুরু করেছেন বিজেপি বিরোধী নেতারা। যেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এই জোটের ঘরে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনডিএ তথা বিজেপি বিক্ষুব্ধ আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকেও বসছেন তিনি। সম্প্রতি এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। এনডিএর এই ভাঙন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

রবিবার দূর্গাপুরে বিজেপির একসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে মুকুল রায় বলেন, ‘২০১৯ সালের লোকসভা ভোট উপলক্ষ্যে যে জোট প্রস্তুতি চলছে, সেই জোটের নেতা কে হবে তা আগে ঠিক করুন মমতা। এখানে রাহুল নেতা হচ্ছেন নাকি মমতা? তা আগে স্পষ্ট করে বলুন।’ উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিরোধী দল। তবে কেন্দ্রীয় স্তরে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে গলায় গলায় ভাব। সোনিয়া গান্ধীর বাড়ির নৈশভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি উপস্থিত না থাকলেও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার রাজ্য থেকে রাজ্য সভায় প্রার্থী করা হয়েছে কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিংভিকে। সেখানে সমর্থন দেবে তৃণমূল। আবার অন্যদিকে ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভায় বিজেপির বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলেছিলেন, তিনি ত্রিপুরায় জোটের জন্য রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মমতা। কিন্তু রাহুল মমতার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। সব মিলিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে জোট গঠন হলেও, তার ভেতর থেকে উঁকিঝুঁকি মারছে দ্বন্দ্ব।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল রায়ের এই বক্তব্যের পিছনে রয়েছে স্পষ্ট ব্যাঙ্গের ইঙ্গিত। যে জোট জোট করে বিরোধীরা মাতামাতি করছে তার আদপে স্থায়িত্ব কতটুকু। তা নিয়েই মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন ছড়েন মুকুল রায়। এছাড়াও টিডিপির মতো বিক্ষুব্ধরা এনডিএর জোট ছাড়লেও কংগ্রেসের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নেবে তা নিয়েও থেকে যায় প্রশ্ন।’

তবে জাতীয় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে রাজ্য রাজনীতি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মুকুল। রবিবার কাঁকসার আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের মানিকারা গ্রামে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনে যোগ দেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের অপশাসন কাটিয়ে রাজ্যে পরিবর্তন আসবেই। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের বহু কর্মী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here