মহানগর ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার বারবেলা, আচমকাই বিধানসভা ভবনে এসে উপস্থিত হলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা দলনেতা মনোজ টিগ্গা। আর এসেই ফাটালেন একের পর এক বোমা। সবার প্রথমে এদিন লেকটাউনে দিলীপ ঘোষের ওপর হামলার নিন্দা করেন। এরপর বিধানসভায় ঢুকে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গেরুয়া শিবিরে আমন্ত্রণ জানিয়ে বসেন মুকুল।

এদিন বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলের ঘর পরিদর্শন করেন মুকুল। এরপর বিধায়কদের সঙ্গে পরিষদীয় ঘরে বসেই বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা সারেন তিনি। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলাখুলি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করেন মুকুল। বলেন, ‘পার্টির নীতি, আদর্শ মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যদি বলেন, আমি ভারতীয় জনতা পার্টি করব। তাহলে আমার ধারণা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে সমর্থন করবে।’ মুকুলের সাফ কথা, ‘কেউ যোগ দিতে চাইলে আমরা বলছি এসো। দরজা সবার জন্য খোলা। মমতাও যোগ দিতে চাইলে যোগ দেবেন। বিজেপির নীতি আদর্শ মেনে কেউ যোগ দিতে চাইলে কেন নেওয়া হবে?’

তৃণমূল কংগ্রেসকে খোঁচা মারার সুরে মুকুল আরও বলেন, ‘সামনে তিনটি উপনির্বাচন রয়েছে। তিনটেই আমরা জিতব। তৃণমূলের কতজন বিধায়ক কমবে তা খবর লাগান। শুধুমাত্র রায়দীঘি কেন? ভবানীপুরে মমতার পাড়াতেই আমাদের মার্জিন বেশি রয়েছে। এই সরকার কদিন থাকে? দেখুন! মন্ত্রীরা কী বলছেন? খোঁজ নিন’। এই উক্তির মাধ্যমে বস্তুত এক ঢিলে দুটো পাখি মারতে চেয়েছেন মুকুল। প্রথমত, যারা এখনও পর্যন্ত দল বদলের বিষয়ে কিন্তু কিন্তু করছেন তাদের দ্বিধাহীন করতে চেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপিতে সামিল করানোর প্রসঙ্গে বারবার নীতি, আদর্শের কথায় জোর দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেউই বাদের খাতায় নেই। দেবশ্রী রায় তো নয়ই।

অন্যদিকে লেকটাউনে দিলীপ ঘোষের ‘চায় পে চর্চা’য় হামলার ঘটনা নিয়ে মুকুল বলেন, ‘খুব অন্যায় হয়েছে। এটা বাংলা জুড়ে চলছে। পুলিশও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বনগাঁয় আমাদের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের ওপরও হামলা হয়েছে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here