kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ঘাসফুলের বদলে পদ্ম ফুল ফোটাতে প্রস্তুতি শুরু করে দিলো গেরুয়া শিবির। এই লক্ষ্যে বড়সড় রদবদল হল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক পদে। সোমবার প্রকাশ করা হয় সেই তালিকা। অর্জুন সিং, খগেন মুর্মু সহ সব্যসাচী দত্তের মতো সদ্য বিজেপিতে আগতদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই তালিকায়। যদিও তাতে নাম নেই শাসক দলের একসময়ের চাণক্য মুকুল রায়ের। তবে রাজ্য নেতৃত্বে তিনি যে থাকতে চান না, তা একাধিকবার ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন তিনি। মুকুল রায়ের ইচ্ছাতেই রাজ্য নেতৃত্বের তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়েছে কিনা, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের একাংশে শুরু হয়েছে জল্পনা।

শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ এর নভেম্বরে। দলনেত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেন তত্কালীন তৃণমূলের সেকন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়। সেই সময় তারসঙ্গেই দল ছেড়ে ছিলেন তার অনুগামীরা। তারপর থেকেই ভাঙ্গন ধরতে থাকে শাসক শিবিরে। চান্যক্যের ভুমিকা পালন করে, একে একে তৃণমূলের প্রচর দাপুটে নেতাকে গেরুয়া শিবিরে টানতে থাকেন মুকুল রায়। বাদ যায়নি বিরোধী দল গুলোও। শুরু হয়ে যায় মুকুল ম্যাজিক। যার প্রভাবেই ২০১৪ সালে ২ টি আসনের পর ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এক লাফেই পশ্চিমবঙ্গে ১৮ টি আসন দখল করে বিজেপি। তবে তার পরেও দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হয়েই থেকে গিয়েছেন তিনি।

যদিও ২০১৯ এ নভেম্বরে দলের অন্দরের হাওয়া বদলের খবর প্রকাশ্যে আসে। বিজেপি সূত্র মারফত জানা যায়, এবার বোধ হয় চাণক্যর ‘ভাগ্যের চাকা’ ঘুরতে পারে। জাতীয় স্তরে বিজেপির কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ অথবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একটি আসন পেতে পারেন মুকুল রায়। সেক্ষেত্রে সর্বভারতীয় বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক করে তাঁকে রাজ্য পর্যবেক্ষক করা হতে পারে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়ে যায় কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর লেন স্ট্রিটে। যদিও সে বিষয়ে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুচারু নেতা মুকুল রায় এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।

এরপরেই চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় বার রাজ্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন দিলীপ ঘোষ। জানুয়ারিতেই নতুন সাংগঠনিক টিমের ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে করোনা ও লকডাউনের চক্করে নতুন টিম সাজানোর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে চার মাস পরে এদিন নতুন টিমের ঘোষণা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। কিন্তু সেই তালিকায় মুকুল রায় নাম না থাকায় শুরু হয়েছে চর্চা। তাহলে কি কেন্দ্রীয় স্তরের কোন পদ পেতে চলেছেন মুকুল রায় ! ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর লেন স্ট্রিটে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here