kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ‘বিশ্বাস কর আমি রাজা হতে আসিনি’৷ সন্ন্যাসী রাজা সিনেমায় ভাওয়াল রাজ রূপী মহানায়ক উত্তম কুমারের মুখের এই ডায়লগ আজকাল এক নেতার মুখে শোনা যাচ্ছে৷ নিজেকে তিনি রূপকার ভাবতেই বেশি ভালবাসেন৷ তাই সোমবার রাতে একটি বাংলা চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অক্লেশে বলেন, আমি কোনওদিনও মুখ্যমন্ত্রী হতে চাই না৷ এমনকী কোনও মন্ত্রিত্বর লোভ আমার কখনও ছিল না৷ বক্তা বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷ অবশ্য এমন বলার কারণও আছে৷ এখন তিনি আর বাংলার নন৷ তিনি দিল্লির বাসিন্দা৷ তাঁর হাল আমলের ঠিকানা অন্তত তাই বলে৷ তাঁর সাফ কথা, মমতা বন্দোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর গদি থেকে সরানোই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য৷ তা পূরণ হলে কী তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন? পরিষ্কার না বললেও তেমনটা ইঙ্গিত দিলেন ‘বাংলার চাণক্য’ মুকুল রায়৷ সোজা কথা তিনি লোভী নন৷ দুর্নীতি খায় না মাথায় দেয়- জানেন না ‘নির্লোভ’ মুকুল৷ অথচ একসময় তাঁকেই কিনা সরদাকাণ্ডের সময় চোর বলেছিল আজকের তাঁর দলের সতীর্থরা? এসব অতীত নিয়ে ভাবেন না তিনি৷

পরিবারতন্ত্রে তিনি একেবারেই বিশ্বাসী নন৷ পিসি-ভাইপো জুটির বিরুদ্ধে অনেকবার সমালোচনায় সরব হয়েছেন৷ আর তাঁর নিজের বেলায়৷ তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় এককালে তৃণমূল কংগ্রসের বিধায়ক ছিলেন৷ এখন বাবার হাতধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ এই প্রসঙ্গে মুকুল জানান, ভবিষ্যতে তিনি ছেলের জন্য জায়গা ছেড়ে দেবেন৷ এদিনের সাক্ষাৎকারে তিনি একটা কথাই স্পষ্ট বলেছেন বার বার শুধু মমতাকে গদিচ্যুত করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য৷ ধনানন্দকে শেষ করে চন্দ্রগুপ্তকে রাজা করার প্রতিজ্ঞা ঠিল গুরু চাণক্যর৷ মুকুলেরও অনেকটা সেরকমই৷ তবে এটা মমতার বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয় বলেই দাবি করলেন৷ তাঁর কথায়,‘চোরকে তাড়াতে গিয়ে ডাকাত নিয়ে এসেছিলাম৷ যে ডাকাত বাংলার গণতন্ত্রকে প্রতিদিন একটু একটু করে শেষ করছে৷ মহাপাপ করেছিলাম৷ তাই সেই পাপস্খালন করছি’৷ তাঁর মতে, বিগত ১০ বছরের মধ্যে ২১শে জুলাই শহিদ দিবসে এমন ফ্লপ শো হয়নি৷ তাঁর মমতাকে পরামর্শ, দেওয়াল লিখন পড়ে সময় থাকতেই গদি ছেড়ে দিন৷ নয়তো বাংলার জনতার কাছে আপনাকে চরম অপমানিত হতে হবে৷

তৃণমূল কংগ্রেস দলটাকে আপাপতত উঠিয়ে দিয়ে মমতাকে ফের কংগ্রেসর সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুপরামর্শ দিলেন মুকুল রায়৷ সেইসঙ্গে তঁরা সাফ কথা, কংগ্রেস, সিপিএমকে সঙ্গে নিয়ে মমতা চলতে পারবেন না৷ তার কারন তিনি স্বৈরাচারী৷ কারও কথা শোনেন না কোনওদিন৷ তাছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে তিনটি দল এক হয়ে লড়লে ২০২১ এ বাংলার বিধানসভা ভোটে বিজেপির আরও বেশি সুবিধে হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি৷

দীলিপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ কোনওকালেই ছিল না৷ এমনটাই পরিষ্কার দাবি করলেন মুকুল রায়৷ বাংলায় বিজেপির লোকসভা ভোটে তুমুল সাফল্যের পরেও তাঁকে তেমন দাম দিচ্ছে না দীলিপ শিবির৷ এই প্রশ্নের উত্তরে মুকুল লাফ জানান, এই নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হন না কোনওদিনও৷ এইসব আসলে তিনি গায়ে মাখেন না৷ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে যা নির্দেশ বা কাজের ভার( তাঁর কথায় অ্যাসাইনমেন্ট) দেন তিনি তাই পালন করেন৷ তঁরা আরও দাবি, দীলিপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর কোনও স্বার্থের সংঘাত নেই৷ সম্প্রতি দিল্লিতে একঝাঁক টলি তারকার বিজেপিতে যোগদান মঞ্চে তিনি দীলিপ ঘোষের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগভাগি করেছেন৷ তাঁদের মধ্যে কথা হয় বলেও দাবি করলেন মুকুল রায়৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here