ডেস্ক: ২৬/১১ মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে জঙ্গি হামলার ঘটনা এখনও তাজা হয়ে রয়েছে দেসবাসীর মনে। ২০০৮ সালে হওয়া এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১৬৬ জন। আহতদের তালিকা ছিল কয়েক’শো। এবার এই হামলা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলল চিন। লস্কর জঙ্গিদের এই মুম্বই হামলাকে ‘সর্বাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলল চিন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র পেশ করেছে বেজিং সরকার। যেখানে তাঁরা স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, এই মুম্বই হামলা সবথেকে নক্ক্যারজনক ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম। গোটা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করে কার্যত চিন এই শ্বেতপত্র পেশ করেছে বলে দাবি বিশিষ্ট মহলের। এই পত্রে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের আতঙ্ক অত্যন্ত উদ্বেগের একটি বিষয়। এই সন্ত্রাসবাদ বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। চিন সমস্ত সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিন যে কোনওদিনই পিছ পা হয় না সে কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের তরফ থেকে।

 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিন সবসময় পাকিস্তানের ওপর ‘বন্ধুত্বসুলভ’ আচরণ করে এসেছে। এর জেরে বারবার কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে চিনকে। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেখানে সকলে ‘আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যা দিতে উদ্যোগী সেখানে দাঁড়িয়ে চিন রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সিদ্ধান্তের ‘বিরোধিতা’ করে এসেছে। ফলে ভারত থেকে আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশ চিনের ওপর যথেষ্ট নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে কার্যত এইসব চাপের মুখে পড়েই চিন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য এই বিশেষ পত্রটি পেশ করেছে বলে দাবি করছে বিশেষজ্ঞ মহল। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে চিন সফরে গিয়েছে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। তাঁর এই সফরকালেই চিনের এই পত্র পেশ যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে তা আর বলার বাকি রাখে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here