munmun-1

ডেস্ক: পোড়া মুখ নিয়ে ড্যাবড্যাবে চোখে চেয়ে রয়েছে মুনমুনের দিকে, বাঁদরামি ভুলে খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা সে। মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে যত্ন করে কোলে তুলে নিলেন মুনমুন। ভোটের প্রচারের আসানসোলের প্রার্থী মুনমুন সেনের সভায় হঠাৎ হাজির হয় এক হনুমান শাবক। আর সেই শাবককে নিয়ে প্রকাশ্য সভায় মেতে উঠলেন মুনমুন। কখনও তার মাথায় হাত বোলান তো কখনও আদর করে তুলে নেন কোলে। ওদিকে মুনমুনের কাণ্ড দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। তবে শুধু মুনমুন নন, তবে ভোট প্রচারে এই হনুমান শিশুই এখন চরম বিতর্ক তৈরি করেছে।

শনিবার রাত্রে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দক্ষিণখন্ড ধর্মরাজতলায় প্রচারে গিয়েছিলেন মুনমুন। সভায় তখন মলয় ঘটক মোদী সরকারের সমালোচনায় সরব। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। উপস্থিত জনতাকে বলছেন, কেনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে মুনমুন সেনকে ভোট দেবেন। তখন মলয়বাবুর বক্তব্য না শুনে, মুনমুন সেনকে দেখা গেল দলীয় এক কর্মীর কোলে থাকা বাঁদরের সাথে খুনসুটি করতে। তবে ওই সভায় শিশু হনুমানটি কে নিয়ে এল, কোথা থেকে এল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ভোট প্রচারের মঞ্চে এভাবে হনুমানকে ব্যাবহার করা আদৌ নির্বাচনী বিধিতে পড়ে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। অন্যদিকে, গত পরশুই গিয়েছে হনুমান জয়ন্তী। সেই ভাবাবেগ কে কাজে লাগাতে এই হনুমান প্রীতি কিনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে মুনমুনের এই হনুমান নিয়ে প্রচারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিম বর্ধমান বিজেপি জেলা সভাপতি লক্ষন ঘোড়ুই। তিনি সাফ জানান যে এভাবে বন্যপশুকে নির্বাচনী কাজে ব্যাবহার করা যায় না, এ নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল। এর বিরূদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এর পাশাপাশি হনুমান শাবককে রাজনীতির ময়দানে ব্যাবহারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, যে কিছুদিন আগেও বিজেপিকে ‘হনুমানের দল’ বলে কটাক্ষ করত তৃণমূল। এখন তারাই সাড়ম্বরে রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী পালন করছে।

পাশাপাশি, সিপিএমও মুনমুনের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান যে, ‘তৃণমূলের জন্য বিবেকানন্দ, রামমোহনের সংষ্কৃতি ভুলতে বসেছে বাংলার মানুষ। মুনমুন সেন যদি একটি গরীব বাচ্চাকে কোলে নিয়ে প্রচার করতেন, তাহলে তাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করা হত, কিন্তু হনুমান শাবককে ব্যবহার করে কি বার্তা দিচ্ছেন তিনি? দুর্গাপুরের বনাধিকারিক মিলন কান্তি মন্ডল সাফ জানালেন এটা সম্পুর্ন বেআইনি। হনুমান কিংবা বাঁদর, দুটিই বন্যপ্রানী আওতাভুক্ত। ১৯৭২ এর বন্যপ্রানী আইন অনুযায়ী কোনভাবেই নির্বাচনী প্রচারে বা মঞ্চে হনুমান শাবককে ব্যাবহার করা যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here