news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দিনকয়েক আগেই তেলেঙ্গানার এক কুয়ো থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৯ পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, আর্থিক অনটনের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এবার জানা গেল, ঘটনাটি আদৌ আত্মহত্যা ছিল না। বরং সুপরিকল্পিতভাবে তাদের খুন করা হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, প্রথমে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে একে একে ন’জনের দেহ ছুড়ে ফেলা হয়েছিল কুয়োয়। আর এই খুনে নাম জড়িয়েছে বছর ২৪-এর যুবক সঞ্জয় কুমার যাদবের। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে। সে যুবকই ওয়ারেঙ্গেলের বাসিন্দা মাকসুদ, তাঁর স্ত্রী, ২ সন্তান, মেয়ে বসরা ও তাঁর ৩ বছরের ছেলেকে গত সপ্তাহে খুনে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে বিহারের বাসিন্দা আরও ২ জন ও ত্রিপুরার একজনকেও খুন করে সে। তারপর দেহ লোপাটের উদ্দেশে ফেলে দেয় কুয়োর ভিতর। এই ৯ মৃতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাও ছিল। ত্রিপুরার একজনকেও খুন করে সে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত মার্চ মাসে এক মহিলা নিখোঁজ হয়ে যায়। তাকেও সঞ্জয়ই খুন করে। ওই মহিলাও বাংলার বাসিন্দা, নাম রফিকা। তার সঙ্গে সঞ্জয়ের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, এমনকি দু’জনে লিভ-ইন সম্পর্কেও ছিলেন। কিন্তু, কোনও কারণে তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। এরপর চলতি বছরের মার্চে প্রেমিকা রফিকাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে খুন করে সঞ্জয়। কিন্তু এই ঘটনার কথা জেনে গিয়েছিলেন গিয়েছিলেন মাকসুদের স্ত্রী। সঞ্জয় জেরার জানিয়েছে, ওই মহিলা বার বার খুনের ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিতেন।

ঠিক এই কারণেই সঞ্জয় যাদব বাকি ৯ জনকেও খুন করবে বলে ঠিক করে। একে এক সবাইকে বিষ দিয়ে দেহগুলি কুয়োয় ফেলে দেয়। দেহগুলি উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে গণ আত্মহত্যা বলে মনে করা হয়েছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হতেই উঠে আসে আসল ঘটনা। ধৃত সঞ্জয় যাদব জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে বলেই জানা গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here