kolkata bengali news

রাজেশ সাহা, কলকাতা: শহরে ফের আততায়ীদের হাতে খুন হতে হল বাড়িতে একা থাকা সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গড়িয়াহাট থানা এলাকার ফার্স্ট গড়চা লেনে। বৃহস্পতিবার সকালে গলাকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় ২-পি গড়চা লেনের বাসিন্দা উর্মিলা দেবীর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুমা সংগ্রহ করেন কলকাতা পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তলব করা হয় লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকদেরও। স্নিফার ডগ নিয়ে এসে চালানো হয় তল্লাশি। এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছান কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা।

ছেলে ও বৌমার সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন ৭০ বছরের উর্মিলা দেবী। ওই পাড়ার মধ্যে উর্মিলাদেবীর পরিবার আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল ছিল বলে জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। তবে ঘটনাচক্রে বৃদ্ধার ছেলে ও বৌমা বিয়ে বাড়ির নিমন্ত্রণে শিলিগুড়ি যাওয়ায় বুধবার রাতে তিনি একাই ছিলেন বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাড়ির পরিচারিকা কাজে এলে তিনিই প্রথম উর্মিলা দেবীর দেহ গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান। সকালে বাড়ির দরজা খোলা অবস্থায় ছিল বলে জানান পরিচারিকা। তার চিৎকারেই ছুটে আসেন উর্মিলা দেবীর প্রতিবেশী দেবলিনা দাস ও তার স্বামী। এরপরেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উর্মিলা দেবীর বাড়ির ঠিক পাশেই একটি বাংলা মদের দোকান চলত। দিনে রাতে সব সময় ওই দোকানের সামনে ভিড় জমতো সমাজবিরোধীদের। ওই মদের দোকানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কিছু অসামাজিক কাজকর্ম চলতাও বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মৃতার এক প্রতিবেশীর অভিযোগ, ওই দোকানের সামনে শুধু বাংলা মদই নয় ওই এলাকায় প্রকাশ্যে রীতিমতো গাজার ঠেক চলত রমরমিয়ে। বারবার এই নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। মধ্যরাতেও ওই দোকানে বেআইনি ভাবে মদ বিক্রি হতো বলে দাবি। ওই দোকানে ভিড় জমানো কোন দুষ্কৃতির এই খুনের ঘটনায় হাত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ওই এলাকায় আশেপাশে একটিও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা জানান, “মৃতার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর প্রমাণ মিলেছে। তার মাথা ধড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থায় ছিল। নৃশংসভাবে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে”। পুলিশ সূত্রে খবর, উর্মিলা দেবীর গলায় কোপ ছাড়াও তার শরীরে প্রায় বারোটি ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। সবকটিই ছুড়ি বা ধারালো অস্ত্রের কোপ বলেই জানান ফরেন্সিক আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, উর্মিলা দেবীর ঘরে কয়েকটি আলমারির কিছু জিনিসপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। যদিও একই ঘরেই অক্ষত অবস্থায় ছিল দুশো টাকার নোটের কয়েকটি বান্ডিল। অক্ষত ছিল বৃদ্ধার শরীরের সোনার গহনাও। ফলে এটা লুঠের উদ্দেশ্য খুন নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতেই নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে তা যথেষ্ট ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। মৃতার এক প্রতিবেশী পুলিশকে জানিয়েছেন, গতকাল রাত বারোটা নাগাদ উর্মিলা দেবীর ঘরে দরজা দেওয়ার শব্দ পাওয়া গিয়েছে। আবার ভোর ৪টে নাগাদ উর্মিলা দেবীর ঘরে আলো জ্বলতেও তিনি দেখেছেন বলে দাবি।ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান রাত সাড়ে বারোটা থেকে আড়াইটের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে। এই নৃশংস খুনে দুই বা দুজনের বেশি আততায়ীর হাত থাকতে পারে বলেই অনুমান পুলিশের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here