kolkata news

Highlights

  • খুন হলেন হাওড়ার বাইনান অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি
  • নিহতের নাম সেখ আসাদুল রহমান
  • পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আসাদুলকে খুন করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, উলুবেড়িয়া: খুন হলেন হাওড়ার বাইনান অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি। নিহতের নাম সেখ আসাদুল রহমান। মঙ্গলবার ভোরে বাইনানের কড়িয়া বড়পোল এলাকায় রাস্তার ধারে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আসাদুলকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের বাড়ি খাজুরটি দক্ষিণপাড়া এলাকায়। জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে তিনি বাড়ির বৈদ্যুতিক বিল এক ব্যক্তির কাছ থেকে আনতে গিয়েছিলেন। সাইকেলে চেপে তিনি যান। সেই সময় কেউ বা কারা তাঁকে খুন করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রায় চার ঘণ্টা মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান। পরে দশটা নাগাদ বড় পুলিশ বাহিনী আসে ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে তারা মৃতদেহ তুলতে দেন। এছাড়া স্থানীয়রা বাইনান-বাগনান রোড অবরোধ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে। কীভাবে খুন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। নিহতের ভ্রু’র ওপরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। নাক ও মুখ থেকে রক্ত বেরনোর দাগ রয়েছে। মাথার কাছে গোটা জায়গাটা রক্তে ভেজা। অর্ধেক দেহ সাইকেলের ওপরে পড়েছিল। অনুমান, তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। যদিও এলাকায় কোনও গুলির খোল পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছেন। আসাদুল টিকিয়াপাড়ায় এক বেসরকারি সংস্থার হিসাবরক্ষক ছিলেন। মেয়ে বাগনান আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেশির ছাত্রী। স্ত্রী গৃহবধূ। আসাদুল দীর্ঘ দিনের তৃণমূল কর্মী ছিলেন। টানা ১০ বছর তিনি বাইনান অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। মাস কয়েক আগে দল তাঁকে সরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসাদুল অত্যন্ত ভাল লোক ও পরোপকারী ছিলেন। স্ত্রী খোদেজা খাতুন বলেন, আজ ভোরে আজানের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ির এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিদ্যুতের বিল আনার কথা ছিল। পরে এক আত্মীয়ের মারফত স্বামীর মৃত্যুর খবর পাই। কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে জানি না। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক।

আসাদুলের ভাই জাহিদুল রহমান এটাকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে দাবি করেন। তিনি বলেন এর সঙ্গে দলেরই কেউ জড়িত রয়েছে। দাদা অত্যন্ত সৎ ছিলেন। সেটা সহ্য করতে না পেরে তৃণমূলেরই কিছু লোক দাদাকে খুন করেছে। আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের সভাপতি সেলিমুল আলম ও আমতা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল বলেন, পুলিশ ঘটনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করুক ও সত্য উদ্ঘাটন করুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here