FILE - In this March 3, 2013 file photo elephants drink water in the Chobe National Park in Botswana. Botswana's government says it has lifted its ban on elephant hunting, a decision that is likely to bring protests from wildlife protection groups. (AP Photo/Charmaine Noronha, File)

মহানগর ওয়েবডেস্ক: রহস্যজনক ভাবে মাত্র দু’মাসের মধ্যে ৩৫০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে আফ্রিকার বতসোয়ানায়। এই অভূতপূর্ব ঘটনায় পরিবেশ কর্মী সহ বণ্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন। আপাতভাবে কোনও কারণই এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে বতসোয়ানা’র ওকাভাঙ্গো বদ্বীপে হাতিদের মৃতদেহ পরিবেশকর্মীদের চোখে পড়তে শুরু করে।

বতসোয়ানা সরকার থেকে জানানো হয়েছে, মৃত হাতিদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ লাগবে পরীক্ষার ফল জানতে। এখনও পর্যন্ত এমন অদ্ভুত ঘটনার কোনও কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য আফ্রিকার হাতিদের মোট সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের বাস আফ্রিকার দক্ষিণে অবস্থিত দেশ বতসোয়ানায়।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউ–র পক্ষ থেকে ডঃ ম্যাককান তার রিপোর্টে জানান, স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মে মাসের গোড়ায় এই ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনেন। তারপর বিশেষজ্ঞদের একটি দল বদ্বীপের ওপর আকাশপথে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। ডঃ ম্যাককান জানিয়েছেন, বদ্বীপের ওপর তিন ঘণ্টার উড়ানে কমপক্ষে ১৬৯টি হাতির মৃতদেহ দেখা গিয়েছে, তার একমাস বাদে আবার একই ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায় মৃত হাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০।

একটি বিশেষ সময় জুড়ে এত সংখ্যক হাতির মৃত্যু অভাবিত এবং এর সঙ্গে খরার কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ডঃ ম্যাককান। চোরা শিকারের সম্ভাবনার কথা বতসোয়ানা সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বাতিল করে দেওযা হয়েছে কারণ হাতিদের মৃতদেহগুলি অক্ষুণ্ণ রয়েছে যেটা চোরা শিকারের ক্ষেত্রে থাকার কথা নয়। ডঃ ম্যাককান জানিয়েছেন, শুধুমাত্র হাতিদেরই মৃত্যু হচ্ছে, চোরা শিকারীরা যদি সায়নাইড ব্যবহার করত তাহলে হাতিদের সঙ্গে অন্য জীবজন্তুদেরও মৃতদেহ পাওয়া যেত। অ্যানথ্রাক্সের সম্ভাবনাও তিনি বাতিল করে দিয়েছেন যদিও এই রোগে গত বছরই ১০০টি হাতির মৃত্যু হয়েছিল।

বতসোয়ানার আঞ্চলিক বণ্যপ্রাণী দফতরের ডিরেক্টর দিমাকাতসো নিতশেবে জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরি থেকে আসা রিপোর্টের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন, একমাত্র সেই রিপোর্ট হাতে পেলেই হাতি মৃত্যুর আসল রহস্য ভেদ হবে বলে তিনি মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here