kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর: নিমতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দৃষ্টিহীন মা ও মেয়ের। মঙ্গলবার ভোর রাতে নিমতার দক্ষিণ প্রতাপগড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘরের মধ্যেই অগ্নিদদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় মা  স্মৃতি দাশগুপ্ত (৭৪) ও তার বড় মেয়ে কল্যাণী দাশগুপ্তর (৪৫)। জানা গিয়েছে, মৃত দু’জনের কেউ চোখে দেখতে পেতেন না। গতকাল মধ্যরাতে দাশগুপ্ত বাড়িতে আগুন লাগে। সেই আগুনেই ঝলসে যান স্মৃতিদেবী ও তার বড় মেয়ে কল্যাণী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাগর দত্ত হাসপাতলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই আগুন থেকে রেহাই পান স্মৃতিদেবীর ছোট মেয়ে সাথী দাশগুপ্ত ঘোষ ও তার কন্যা। এ দিন সাথীদেবী বলেন, গতকাল রাত আড়াইটে নাগাদ আগুন লাগে। তিনি মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু চোখে দেখতে পান না বলে মা ও বড় দিদিকে বাঁচাতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার দুটি পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। এর আগেও আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। এবার আগুন লাগিয়ে খুন করা হয়েছে তার মা ও দিদিকে।

কী ভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে নিমতা থানার পুলিশ। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাতে  প্রচণ্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি দাশগুপ্ত বাড়িতে আগুন লেগেছে। বাইরে বেরিয়ে এসে দেখি পাড়ার অন্য সবাইও এসেছে। তখনই ওদের ঘর থেকে সাথী ও তার মেয়েও বেরিয়ে আসেন। ওদের ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। জল দিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেওয়া হয়। কিন্তু যতক্ষণে আগুন নেভে, ততক্ষণে স্মৃতিদেবী ও তার বড় কন্যা কল্যাণী আগুনে ঝলসে গিয়ে ওখানেই মারা যান। এরপর তাদের কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, দাশগুপ্ত পরিবারের সকলেরই জন্মগত প্রতিবন্ধিকতা রয়েছে। এদিন আশ্রয়হীন সাথী ও তার মেয়েকে স্থানীয় একটি ক্লাবে আশ্রয় দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here