বারাসতে পুলিশ কর্মীর ছেলের রহস্য মৃত্যু, আশঙ্কা খুনের

0
78
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসত: শনিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শাসন থানায় কর্মরত এক পুলিশকর্মীর ছেলের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল পুলিশ আবাসনের নীচ থেকে। সেই ঘটনা ঘিরে বেশ শোরগোল পড়ে গেল বারাসতের পুলিশ আবাসন এলাকায়। মৃত যুবকের নাম প্রভাকর গিরি(২৪)। তার পরিবারের সন্দেহ, তাকে খুন করা হয়েছে। এবিষয়ে বারাসত থানায় অভিযোগ‌ও দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রভাকর বিভিন্ন ব‍্যাঙ্কে সার্ভারের কাজ করত। শুক্রবার সে কাজে যাননি। দুপুরের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মেরে সে একবার বাড়িতে আসে। পরে, বিকালের দিকে ফের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাত ১০টা নাগাদ তার মোবাইলে ফোন করা হলে সে বলে, বারাসত স্টেশনের পাশে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িতে যাওয়ার কথাও পরিবারকে বলে সে। এরপর, তার মোবাইলে আর যোগাযোগ করা যায়নি। এরপরই এদিন সকালে বারাসত কাছারি মাঠের পাশে পুলিশ আবাসনের নীচে তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার পরিবারের লোকেরা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই প্রভাকরকে মৃত বলে ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনার জেরে ব‍্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুলিশ মহলে।

মৃতের বাবা কৃষ্ণানন্দ গিরি পুলিশ কর্মী। তিনি শাসন থানায় কর্মরত। আগে বারাসত থানাতেই পোস্টিং ছিল তার। বারাসত কাছারি মাঠের পাশে পুলিশ আবাসনের দোতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন কৃষ্ণানন্দবাবু। তার চার মেয়ে ও দুই ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। সম্প্রতি হার্টের সমস্যার জন্য তিনি ভেলোরে পরিবারকে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার‌ই বাড়ি ফিরেছেন সকলে। তার‌ই মধ্যে বড় ছেলে প্রভাকরের রহস্য মৃত্যু। তবে, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে দাবি প্রভাকরের পরিবারের। তাদের অভিযোগ, প্রভাকরকে খুন করা হয়েছে।কারন, তার কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বেরেচ্ছিল। সন্দেহের তীর বন্ধুদের দিকেই। ঘটনার পর‌ই বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রভাকরের দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ‌ও শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি খুন না দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here