ডেস্ক: দল তাঁকে বহিস্কৃত করলেও, তিনি নিজেকে ‘সিপিএম’ তথা ‘বামপন্থী’ দাবি করে এসেছেন৷ তবে আজ থেকে তিনি আর ‘সিপিএম’ বা ‘বামপন্থী’ নন, তিনি ‘তৃণমূলী’ বা ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর আদর্শে আনুষ্ঠানিকভাবে সামিল হলেন৷ এমনটা যে হতে পারে, তা গত বেশ কয়েকমাস ধরেই আঁচ করা যাচ্ছিল৷ রাজনৈতইক মহলে খবর ছিল, যে কোনও দিন তিনি তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন৷ শর্ত ছিল, নিজের কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, খুশি করতে হবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তাহলেই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে পারবেন তিনি৷ কাজটা অবশ্য খুব কঠিন ছিল না এই ‘তরুণ তুর্কি’ সাংসদের সামনে৷ বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সরগর তিনি৷ তাই নেত্রীর বিশ্বাস ভাজন হতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন ফেসবুক টুইটারকে৷ নিয়ম করে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা আর সেই প্রশংসার থেকেও কয়েকগুন বেশি মোদী ও কেন্দ্রের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গুড বুক’-এ নাম তুলে নিলেন বহিস্কৃত সিপিএম নেতা তথা রাজ্যসভার ডাকাবুকো সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এখন থেকে তিনি শুধুই তৃণমূলী৷ যদিও রাজ্য সরকার জন প্রতিনিধি হিসেবে ঋতব্রতকে বড় পদে বসাল৷ দলীয়ভাবে এখনও কিছু ঘোষণা করে হয়নি৷ কিন্তু এই পদক্ষেপ যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ঋতব্রতকে ঘাসফুলের টিকিট এনে দিতে পারে, তা এখন অনেকেই মেনে নিচ্ছেন৷

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরাট পুরস্কার তুলে দিলেন ঋতব্রতের হাতে৷ একেবারে নবান্ন থেকে সেই উপহার ঘোষণা করলেন তিনি৷ রাজ্যের আদিবাসীদের উন্নয়নের রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার এই কমিটি গঠন করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই রাজ্যে আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের পদ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেইসঙ্গে ঋতব্রতকে বিস্তারিতভাবে তাঁর দায়িত্ব ও কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের যে সংগঠনগুলি রয়েছে তার সবকটির মাথায় উপর ‘ব’কলমে থাকবেন ঋতব্রত৷ প্রতিটি জেলা থেকে দু’জন আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এই কমিটিতে থাকবেন৷ তাঁরাই ঋতব্রতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সরাসরি করবেন৷ একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপও খোলা হয়েছে৷ সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের যে কোনও মানুষ যোগদান করতে পারেন৷ এবং উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগস্থাপন করতে পারেনও বলেও নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে৷ সমস্ত জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নবান্নের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডল ও শান্তিরাম মাহাতরা।

রাজনীতিতে কোনও স্থায়ী শত্রু হয়, রাজনীতি সবসময়ে সরল রেখায় চলে না৷ পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পথ পরিবর্তন করে– এই তত্ত্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ একদা সিপিএমের যে দাপুটে ছাত্র নেতা রাজধানীর রাজপথে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে চরম হেনস্তা করেছিলেন, সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মমতার স্নেহভাজন৷ শুধু তাই নয়, পেলেন এমন একটি পদ, যা মমতা নিজের ছায়াসঙ্গীদেরও দিতে পাঁচবার ভাবতেন! মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, ‘পাপ কে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়!’

উল্লেখ্য, দলবিরোধী কাজ ও শৃঙ্খলাহীন জীবনযাপনের জন্য গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করে সিপিএম। তার পর থেকে রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ হিসাবে কাজ চালিয়ে যান ঋতব্রত। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়েও জল্পনা চলতে থাকে। এক যুবতী ঋতব্রতের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মামলা করেন৷ সেই সংক্রান্ত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরালও হয়ে যায়৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here