ডেস্ক: ঠিক হোক বা ভুল চমকে দেওয়ার তালিকার বরাবরই শিরোনামে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি। যে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার হিড়িক তুলে গোটা দেশে বেশীরভাগ জায়গায় গেরুয়া ধ্বজা উড়িয়ে চলেছে বিজেপি, সেই ডিজিটালাইজেশনি এখন মুখ্য হাতিয়ার আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ে। আসন্ন ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে হবু বিধায়ক খুঁজতে মোদী শাহের কাছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চলেছে নমো অ্যাপ।

রাজ্যের দলনেতার কথার ভিত্তিতে টিকিট দেওয়ার যে রীতি এতকাল ধরে ভারতের রাজনীতিতে চলে আসছিল তার দিন এবার শেষ করতে চলেছে বিজেপি। যাদের ভোটে লড়াই করার জন্য টিকিট দেওয়া হবে তাঁদের একেবারে আতস কাঁচের নিচে ফেলে আপাদমস্তক জরিপ করে তবে ক্লিনচিট শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেখানেই মূল হাতিয়ার এই নমো অ্যাপ। কারণ এই অ্যাপের মাধ্যমে শুধু মাত্র রাজ্য নেতৃত্ব নয়, সব শ্রেণীর মানুষের ফিডব্যাক রাজ্যে নেতাদের ছাপিয়ে সরাসরি পৌছে যাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘরের অন্দরে। এমনকি মোদী-শাহের কাছেও। সেখানে কোনও রকম ভূলচুক ধরা পড়লেই নেমে আসছে শীর্ষ মহল থেকে খাঁড়ার ঘা। আর এই ফরম্যাটে ছতিশগড়ের আসন্ন নির্বাচনে প্রথমে ৭৭ জন বিধায়কের নাম ঘোষণা করলেও, পরে ১৪ জনকে টিকিট দেওয়া হয়নি। পরের রাউন্ডে বাতিলের তালিকা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু তাই নয় মধ্যপ্রদেশেও দেখা গিয়েছে একই চিত্র। সেখানেও নমো অ্যাপের জেরে ১৬৫ জন প্রার্থীর মধ্যেই ৭০ জপ্ন বাতিল হয় দশা।

হাল আরও খারাপ রাজস্থানে। বসুন্ধরা রাজের হাতে সেখানে বিজেপির অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় । নানান সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সেখানে কংগ্রেসের কাছে ক্ষমতাচ্যুতও হতে পারে বিজেপি। সেখানে ২০০ টি আসনের মধ্যে ১৩৭ টি আসনের প্রার্থী বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সব মিলিয়ে নমো অ্যাপকে হাতিয়ার করে রাজ্যের মানুষের মন বুঝে দলনেতা নির্বাচনের পথে নেমেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও ওই একই রাস্তায় হেঁটে প্রার্থী নির্বাচনের পথে এগতে চলেছে মোদী-শাহ জুটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here