নিজস্ব প্রতিনিধি : নারদকাণ্ডে লড়াই কি আসলে সিআইডি বনাম সিবিআই? আজ, মঙ্গলবার দিনভর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেল রাজনৈতিক মহলে। তাঁদের মতে, শীতলকুচিকাণ্ডের পাল্টা ‘গুগলি’ নারদকাণ্ডের পদক্ষেপ।

এ রাজ্যে আট দফায় হয় বিধানসভা নির্বাচন। বড় ধরণের অশান্তি হয় চতুর্থ দফায়, কোচবিহারের শীতলকুচিতে। ওই দিন অশান্তি থামাতে শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথ এলাকায় গুলি চালান নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। নিহত হন চার গ্রামবাসী। ওই ঘটনার পর রাজ্যে যতগুলি সভা করেছেন তৃণমূল নেত্রী, প্রতিটিতেই উঠে এসেছে শীতলকুচিকাণ্ডের কথা। এবং তিনি তৃতীয়বাবের জন্য ক্ষমতায় ফিরলে শীতলকুচিকাণ্ডে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে ফেরেন মমতা। শপথ নেন চলতি মাসের ৫ তারিখে। মন্ত্রিসভা গঠিত হয় ১০ তারিখে। তারপরেই নির্দেশ দেন শীতলকুচিকাণ্ডে সিআইডি তদন্তের।

নির্দেশ পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠে সিআইডি। ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয় দুই আধিকারিক সহ সিআরপিএফের আট জওয়ানকে। যদিও তাঁরা হাজিরা দেননি বলেই সিআইডি সূত্রে খবর। শীতলকুচিকাণ্ডে তদন্ত করতে সিআইডির একটি দল কোচবিহারে যায়।

সিআইডির এই ‘অতি সক্রিয়তা’র ঠিক পরে পরেই, সক্রিয় হয় সিবিআই। গতকাল, সোমবার, কাকভোরে নারদকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। এদিনই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতা মদন মিত্র ও প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও। ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসে নারদকাণ্ডের ফুটেজ।তার পর পদক্ষেপ করতে সিবিআইয়ের সময় লাগল এতগুলো বছর! যা দেখে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, লড়াইটা আসলে সিআইডি বনাম সিবিআই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here