ডেস্ক: বিধানসভার ফ্লোর টেস্টে পাস করতে না পেরে আস্থা ভোটের আগেই পদত্যাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা৷ প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে না পারায় মাত্র দু’দিনেই কর্ণাটকে পতন ঘটল বিজেপি সরকারের৷ যা কার্যত মুখ পোড়াল গেরুয়া শিবিরকে৷ কর্ণাটকের এই ধাক্কা গোটা দেশে বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিল মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

কর্ণাটকে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ‘হর্স ট্রেডিং’ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস এবং জেডিএস৷ বিরোধী দলের বিধায়কদের দলে টানার জন্য ১০০ কোটি টাকা ও মন্ত্রীত্বের টোপ দেওয়া হয়েছিল৷ শুধু তাই নয়,বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ইয়েদুরাপ্পার বিরুদ্ধেও টেপ প্রকাশ্যে এনে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস৷ তবে প্রেস্টিজ ফাইটে কংগ্রেস এবং জেডিএস অবশ্য নিজেদের ঘর ভাঙতে দেয়নি৷ অনেক নাটকীয় পটপরিবর্তেনর অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ইয়েদুরাপ্পা৷

বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নির্দেশেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ইয়েদুরাপ্পা৷ অবশ্য সংখ্যা জোগাড় না করতে পারলে এমনিতেই পদত্যাগ করতে হত ইয়েদুরাপ্পাকে৷ কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল শনিবার বিকেল চারটে আস্থা ভোটের মাধ্য সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিজেপি ও ইয়েদুরাপ্পাকে৷

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কর্ণাটকে সংখ্যা জোগাড় করতে গিয়ে মুখ পোড়াতে নারাজ ছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের সেই বার্তাই পৌঁছে গিয়েছিল কর্ণাটকে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, অনৈতিকতার আশ্রয় নেওয়ার চেয়ে সসম্মানে বিদায় নেওয়া উচিত। ইয়েদুরাপ্পাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগেই জানিয়ে ছিল, বিপক্ষের বিধায়ক ভাঙতে কোনওভাবেই যেন আইন না ভাঙা হয়। আর কয়েক মাস পরে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নারাজ মোদী-শাহ। তাঁরা মনে করছেন, সসম্মান বিদায় নিলে সাধারণ মানুষের আবেগ তাঁদের পাশে থাকবে। আস্থাভোটের আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে ইয়েদুরাপ্পা ফোন করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। গরিষ্ঠতা প্রমাণে তার দলে যে ব্যর্থ হতে পারে, সেখবর সম্ভবত আগেই সর্বভারতীয় সভাপতির কানে তুলে দিয়েছিলেন ইয়েদুরাপ্পা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহ জুটি শপথ নিয়েছিলেন ‘কংগ্রেস মুক্ত’ ভারত গড়ার৷ সেই অভিষ্ট লক্ষ্যে গোটা দেশে একের পর এক নির্বাচনে গেরুয়া ধ্বজা উড়িয়েছে বিজেপি৷ এককক ক্ষমতায় হোক কিংবা ‘হর্স ট্রেডিং’, একের পর এক রাজ্য কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি৷ একই পথে হেঁটে কর্ণাটকেও ক্ষমতা দখলের মোহতে বিভোর ছিলেন ইয়েদুরাপ্পা এবং বিজেপি৷ কিন্তু আস্থা ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ে ব্যর্থ ইয়েদুরাপ্পা৷ অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন তিনি৷ মুখ পুড়ল বিজেপির৷ উৎসবে মেতে উঠল কংগ্রেস ও জেডিএস বিধায়করা৷

কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ সময় পর বিজেপি সবচেয়ে বড় দলের তকমা পেয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ২২২টি আসনের মধ্যে ১০৪টি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির। শাসক দল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৭৮টি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার জেডিএস ৩৮টি আসন পেয়েছে। রাজ্যপাল ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ করান এবং ১৫ দিনের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ প্রমাণের জন্য বলেন৷ যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস এবং জেডিএস৷ সর্বোচ্চ আদালত শনিবার বিকেল চারটের মধ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রমাণে ব্যর্থ ইয়েদুরাপ্পা৷

একজন জনপ্রতিনিধি সাংসদ ও বিধায়ক একসঙ্গে থাকতে পারেন না। তাই সাংসদ পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদ থেকেও সরে যেতে হল ইয়েদুরাপ্পাকে৷ বিধানসভায় কান্নার ভাষায় বিদায়ী ভাষণে আবেগপ্রবণ ছিলেন ইয়েদুরাপ্পা৷ বিধানসভা থেকে বেরিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র দিতে গেলেন ইয়েদুরাপ্পা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here