এনআরসি অতীত, ক্যাবের গুণ গাইতে উদ্বাস্তুদের আমন্ত্রণে শহরে আসছেন মোদী-শাহ

0
modi shah kolkata news

নিজেস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উদ্বাস্তুদের আমন্ত্রণে কলকাতায় আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ায় উদযাপনের জন্য বিভিন্ন উদ্বাস্তু সংগঠনের আমন্ত্রণে শহরে আসবেন তাঁরা। মঙ্গলবার এমনটাই জানান বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা। বলে রাখা ভাল, কেবল লোকসভাতেই পাশ হয়েছে এই বিল। রাজ্যসভায় পাশ না হওয়ার আগে পর্যন্ত আইনে রূপান্তরিত হতে তা রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে পারবে না।

এদিন রাহুল সিনহা জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ভারতবর্ষে উদ্বাস্তু হয়ে থাকতে হয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের। এতদিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেতে চলেছেন, তাই উদ্বাস্তুরা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা দেবেন। এই উপলক্ষে নতুন বছরের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শহরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

রাহুলের আরও বক্তব্য, ‘যারা স্বরণপ্রার্থী তাদের আশ্রয় দেওয়া ভারতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতি। মোদী ও শাহের হাত ধরে সেই সংস্কৃতিই পুনঃস্থাপিত হল।’ তাঁর কথায়, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের দ্বারা ভারতে হিন্দু এবং ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার স্পষ্ট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতীয় হিন্দুরা যে সুযোগ সুবিধা পাবে সেই রকম একই সুযোগ-সুবিধার পাবেন ভারতীয় মুসলিমরাও। একমাত্র অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদেরই চিন্তার কারণ হতে পারে।’

প্রসঙ্গত, করিমপুর, খড়্গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলেই মন খারাপ বিজেপির। তারমধ্যে ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুর ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। বিজেপির এই খারাপ ফলের জন্য এনআরসিকেই দায়ী করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সহ আম জনতা। নিজেদের হারের জন্য এনআরসিকেই দায়ী করেছেন খোদ বিজেপি প্রার্থীও। বিজেপির হারের জন্য এনআরসিকে দায়ী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে দেখা গেছে অনেককেই। এই অবস্থায় এনআরসিকে সরিয়ে ক্যাব নিয়েই প্রচার চালাবে বলে ঠিক করেছে বিজেপি। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার প্রভাব যাতে না পড়ে, তার জন্যই ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি রাহুলের এই সাফাই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে রাহুল সিনহার কথায়, ‘কংগ্রেসের আমলে দেশ ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। সেই চুক্তি অনুযায়ী দুটি মুসলিম রাষ্ট্র দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কেন এই দুই দেশের মুসলিমরা ভারতে প্রবেশ করছে। এর একটাই কারণ হতে পারে ইসলামিক চক্রান্তকে সফল করা। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের সমর্থন করছে। আর এই একই কারণে রাজ্যের শাসকদলকে সমর্থন করছে বাম কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলিও। কিন্তু এই বিল পাশ হওয়াতে এবার বিপদে পড়তে চলেছে এই অনুপ্রবেশকারীরা।’ তাই ভারতীয় মুসলিমদের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই বলেই এদিন স্পষ্ট করেন রাহুল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here