narendra modi at brigade

মহানগর ডেস্ক: রবিবারের ব্রিগেডে বিজেপি নেতারা যে ভাবে তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছিলেন, তার ঝাঁঝ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে ধরাশায়ী করবেন বলে ব্রিগেড থেকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন মেদিনীপুরের ‘ভুমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রধানমন্ত্রী সভায় উঠে একের পর এক কটাক্ষে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক হাত নিলেন।কিছুদিন আগেই পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ই-স্কুটি চেপে নবান্নে গিয়েছিলেন মমতা।

সেখান থেকে স্কুটি চেপেই কালীঘাটে আসেন। তিনি অবশ্য তখন চালকের আসনে। তবে অনভ্যস্ত হাতে বারংবার হোঁচট খেয়েছিলেন তিনি, একসময়ে পড়ে যাওয়ারও উপক্রম হয়। আবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে সরে গিয়ে এবার শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। মমতার সেই স্কুটি সফরকেই নন্দীগ্রামের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তৃণমূলনেত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে স্কুটি সামলাচ্ছিলেন দিদি। সবাই ভয় পাচ্ছিলেন, আপনি পড়ে গিয়ে যদি আঘাত পান! ভাগ্যিস পড়ে যাননি। নইলে যে রাজ্যে স্কুটি তৈরি হয়েছে, সেই রাজ্যকেই নিজের শত্রু বানিয়ে ফেলতেন। তাই ভাল হয়েছে পড়ে যাননি। কিন্তু ভবানীপুর যেতে যেতে নন্দীগ্রামের দিকে কী করে ঘুরে গেল স্কুটি? আমি চাই না আপনি পড়ে গিয়ে আঘাত পান। কিন্তু স্কুটি যখন নন্দীগ্রামেই গিয়ে পড়েছে, তখন আমরা আর কী করব।’’

২০১১ সালে যে নেত্রী কে ‘দিদি’ বানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছিলেন, সেই ‘দিদি’ এখন শুধু একজনের ‘পিসি’ হয়েই রয়ে গেছেন বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘১০ বছর পর মানুষ জবাব চাইছেন। দিদি হিসেবে আপনাকে বেছে নিয়েছিলেন সকলে। কিন্তু আপনি নিজেকে শুধু ভাইপোর পিসি হিসেবেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেয় বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বামপন্থীদের সঙ্গে বহুদিন ধরে লড়াই করে তবে ক্ষমতায় এসেছেন দিদি। দিদি এখন অনেক বদলে গেছেন। সেই লড়াকু নেত্রী এখন আর নেই।’       

তৃণমূলের দুর্নীতির পাঁকেই যে বাংলায় পদ্ম ফুটছে সে কথাও এ দিনের ব্রিগেড থেকে খোলাখুলি বলেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনার দল এবং আপনার সরকারের ছড়ানো পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে। গণতন্ত্রের নামে বাংলায় লুটতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, জাত-ধর্মের নামে বিভেদের রাজনীতি করেছেন, তাই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here