জবুথবু বিক্রমকে ঝটকা দিতে এবার বড় অ্যান্টেনার মাধ্যমে ‘হ্যালো’ পাঠাল নাসাও

0
888
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে চাঁদের মাটি ছোঁয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের। অরবিটার থেকে আলাদা হয়ে চাঁদে সফট ল্যান্ডিং চালানোর চেষ্টার সময়ই এই ঘটনা ঘটে। তারপর অবশ্য অরবিটারের থার্মাল ছবিতে বিক্রমের অবস্থানের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু যোগাযোগের চেষ্টায় পাঁচদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন হয়নি। ইসরোর এই অক্লান্ত প্রচেষ্টার শরিক হতে এবার ময়দানে নামল নাসাও। জানা গিয়েছে, ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়ে নাসাও মেসেজ পাঠিয়েছে।

সংবাদ সূত্রে খবর, নাসা তাদের অত্যাধুনিক অ্যান্টেনার মাধ্যমে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চেয়ে ‘হ্যালো’ মেসেজ পাঠিয়েছে নাসা। নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি রেডিয়ো ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসরো প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতে ও চুক্তির মধ্যে থেকেই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে নাসার তরফে।

প্রথমে জানা যাচ্ছিল, চাঁদের মাটির থেকে ২.১ কিলোমিটার দূরে থাকতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ইসরোর। কিন্তু এদিন জানানো হয়, ২.১ কিলোমিটার নয়। যোগাযোগ হারিয়ে ল্যান্ডার বিক্রম যখন আছড়ে পড়ে তখন চাঁদের মাটি থেকে তার দুরত্ব ছিল কেবল ৪০০ মিটার। গত তিনদিন ধরে অরবিটারের মাধ্যমে বিক্রমের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে লাগাতার খোঁজ খবর নিয়ে এমনটাই জানতে পেরেছে ইসরো। কিন্তু, আছড়ে পড়ার পর বিক্রমের কতটা ক্ষতি হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত অজানা। বিক্রমের বুকে থাকা ‘প্রজ্ঞান’ও যে বেরিয়ে নিজের স্বাভাবিক কাজ শুরু করতে পারেনি সে সম্পর্কেও একপ্রকার নিশ্চন্ত বিজ্ঞানীরা। অরবিটারের কক্ষপথের দুরত্ব কমিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছে নিয়ে যায় কিনা তা নিয়ে অবশ্য চিন্তা-ভাবনা চলছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, সেটা হলে ফলাফল আরও বিপজ্জনক হতে পারে। চাঁদের মাটির যত কাছে অরবিটার যাবে, তার জ্বালানি তত কমবে এবং সময়কালও কমে আসবে। ফলে সেই পরিকল্পনাকে আপাতত ঠান্ডা ঘরে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে।

বিক্রমকে পালকের মতো অবতরণ বা সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, বিক্রম সেই গতিবেগে নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পেরে আছড়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরোর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কেবল এটুকুই জানানো হয়েছে যে বিক্রম দু’টুকরো হয়ে যায়নি। গোটা রয়েছে। তবে গতিবেগের সঙ্গে ধাক্কা খেলে যন্ত্রাংশ যে বিকল হবে তা ধরেই নিচ্ছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সেই কারণেই যোগাযোগ স্থাপন করাও কঠিন হচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। যদিও এখনই হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন বিজ্ঞানীরা। হাতে রয়েছে আরও নয় দিন সময়। যতক্ষণ না রাত নেমে আসছে চাঁদে। ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে ইসরো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here