নিজস্ব প্রতিবেদক, বীরভূম: নিহত দিলদার খানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্যরা৷ শনিবার তাদের সঙ্গে দেখা করেন কমিশনের দুই প্রতিনিধি সুনীল সিংহী ও ভাদা দস্তুরজী খুরশেদ৷ এদিন তারা দিলদারের স্ত্রী, কন্যা ও পিতা তোহিদ সেখের সঙ্গে কথা বলেন৷ সাক্ষাতের পর কমিশনের সদস্যদের ধারণা, নিহতের পরিবারটির ওপর একটা অদৃশ্য চাপ কাজ করছে৷

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মনোনয়নের সময় বীরভূমের সিউড়িতে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে নিহত হন কড়িধ্যা গ্রামের ভাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিলদার খান। মৃত্যুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দিলদারের বাবা তহিদ খান সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন, দিলদার বিজেপির কর্মী ছিলেন। তার স্ত্রীকে বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী করার জন্য তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপরই তৃণমূল দাবি করে, দিলদার তাদের দলের কর্মী ছিলেন।

তবে এদিন দিলদারের এলাকায় পৌঁছোতেই তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়েন কমিশনের সদস্যরা৷ অবশেষে তারা সিউড়ির পিডিসিএল সরকারি আবাসনে হাজির হন। সেখানেই কেন্দ্রীয় কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান দিলদারের পরিবারের লোকেরা৷ তাদের সঙ্গে প্রায় দীর্ঘক্ষন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কমিশনের সদস্যরা। তারপর সেখান থেকে বেড়িয়ে যায় দিলদারের পরিবার।

বৈঠক শেষে কমিশনের তরফে দস্তুরজী বলেন, ‘দিলদারের পরিবারের ওপর কোনও অজ্ঞাত চাপ আছে। যেটা তারা খোলাসা করে আমাদের কাছে কিছু বললেন না৷’ তিনি আরও জানান, ‘ভারত সরকারের তরফে আমরা এখানে এসেছি। দিলদার খুনের ঘটনার আমরা তীব্র ভর্ৎসনা করছি। ওনার পরিবারকে আমরা সমবেদনা জানালাম। ওনাদের এই দুঃখের সময়ে গোটা কমিশন ওনাদের সঙ্গে আছে। ওনাদের আমরা জানিয়েছি যারা দিলদারের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যতটা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কমিশন ব্যবস্থা নেবে।’ বাংলায় সংখ্যা লঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা প্রসঙ্গে কমিশনের সদস্যরা বাংলার আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এইভাবে বাংলায় একের পর এক সংখ্যালঘুদের হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সঠিক নেই। গোটা বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জানানো হবে বলে বলা হয়৷

অন্যদিকে, বৈঠকের সময় পিডিসিএল সরকারি আবাসনে দিলদারের পরিবারের সঙ্গে বৈঠকের সময় আবাসনের বাইরে বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। সিউড়ি পুরসভার কাউন্সিলার কাজী ফইজুদ্দিন বলেন, ‘দিলদার প্রথম থেকেই আমাদের দলের কর্মী ছিলেন। তার পরিবার তৃণমূলের সমর্থক। দিলদারের পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর আদর্শে বিশ্বাসী। আজ কমিশনের লোকেরা এসে দিলদার খুন নিয়ে রাজনীতি করছে। বিজেপির তরফে রাজনৈতিক ভাবে কমিশনের লোকেদের এখানে পাঠানো হয়েছে। বিজেপি দিলদারের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বদলে রাজনীতি করছে৷’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here