kolkata bengali news

ডেস্ক: ‘বঙ্গে এবার ২৩টি আসন জিততে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি’। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন দাবি শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের সভা থেকেই করেছেন অমিত শাহ। মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষেদের সুরও একই কথা বলছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা জানান দিচ্ছে। বিগত কয়েকটি সমীক্ষাতে খুব স্পষ্টই দেখা গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বেশ কিছু লোকসভা কেন্দ্রে পদ্মফুল ফুটতে পারে। তবে সংখ্যাটা কখনই ১১-এর বেশি নয়। সাম্প্রতিক সমীক্ষাতে আরও একবার স্পষ্ট, বিজেপির উত্থান হলেও ২৩টি আসন জয় অলীক স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়।

তৃণমূলের টার্গেট ৪২-এ ৪২। বিজেপি ২৩। বলাই বাহুল্য, সমীক্ষা যা বলছে তাতে কোনও দলেরই টার্গেট পূরণ হবে না। তবে টার্গেটের বেশি কাছে কে যেতে পারে সেই পরীক্ষা অবশ্যই হবে। আর সেই পরীক্ষায় কে কতটা সাফল্য পেতে পারে তা জানতে বাংলার ৪২টি আসনে সমীক্ষা চালিয়েছে ‘দ্য নিয়েলসন’ সংস্থা। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট আগের মতোই থাকার ইঙ্গিত মিলিছে। যদিও তাদের আসন সংখ্যা গতবারের ৩৪ থেকে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে প্রকাশ পেয়েছে এই সমীক্ষায়। নিয়েলসন গ্রুপ বলছে, এবারের লোকসভা ভোটে ৪২টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসনে জয়লাভ করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে বিজেপির ঝোলায় উঠে আসতে পারে ৮টি আসন। যার মধ্যে বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গ থেকে। অন্যদিকে বামেরা এবার খাতা না খুলতে পারলেও কংগ্রেস ৩টি আসনে দখল মজবুত রাখতে পারে ইঙ্গিত এই সমীক্ষায়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই অবশ্য সমীক্ষা চালিয়ে রাজ্য থেকে ১১টি আসন বিজেপি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল এই একই সংস্থা। তবে তিন মাসের মধ্যেই হাওয়া কিছুটা হলেও ফের শাসকদের দিকে ঘুরেছে। এবারের সমীক্ষা জানাচ্ছে, রাজ্যে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট হলেও শতকরা ভোটের হারে এগিয়ে জোড়াফুলই।

নিয়েলসনের সমীক্ষায় প্রকাশ। চলতি বছর এ রাজ্যে ৩৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। পদ্মশিবিরের ভোট একলাফে গিয়ে পৌঁছতে পারে ২৬ শতাংশে। বামেরা মাত্র দুই শতাংশ পিছিয়ে থেকে ২৪ শতাংশ ভোট নিয়ে হতে পারে তৃতীয়। সব শেষে কংগ্রেস পেতে পারে ৯ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ একটা ছবি খুবই স্পষ্ট, ভোটের হার হোক বা আসন; সবদিক দিয়েই লাভে থাকতে চলেছে বিজেপি। গতবার যেখানে এ রাজ্য থেকে মাত্র দুটি আসন বিজেপি পেয়েছিল, সেখানে এবার ৮টি আসন পেতে চলেছে তারা। অন্যদিকে ২০১৪ সালের ১৭ শতাংশ ভোটের তুলনায় এবার ৯ শতাংশ বাড়বে বিজেপি ভোট। ফলে লোকসভায় বঙ্গে বিজেপির উত্থান হলেও তা মোটেই বিজেপি নেতাদের দাবির সঙ্গে মানানসই নয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here