national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: গতকালই বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতিমধ্যেই নিজের এক মেয়ের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও এই ভ্যাকসিন নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে। এরই মাঝে এইমসের ডিরেক্টর জানিয়ে দিলেন ভারতে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের আগে ভালো করে পরীক্ষা করা জরুরি।

ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘রাশিয়ার ভ্যাকসিন যদি সফল হয়, তাহলেও আমাদের দেশে তা প্রয়োগের আগে ভালো ভাবে এটির কার্যকারিতা নিয়ে সব যাচাই করতে হবে। এই ভ্যাকসিনের যেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না, তেমনই শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতেও সক্ষম হতে হবে। তবে ভারতের এই ভ্যাকসিন বিপুল মাত্রায় তৈরি করার ক্ষমতা আছে।’

রাশিয়ায় করোনার এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে গ্যামেলিয়া ন্যাশানাল রিসার্চ সেন্টার। স্পুটনিক নিউজ এজেন্সিকে ওই সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার গিন্সবার্গ জানিয়েছেন, যে পার্টিকেল দিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে তা মানব শরীরের কোনও ক্ষতি করে না। ভ্যাকসিনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পুটনিক ফাইভ’।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন আগেই রাশিয়া জানিয়েছিল তাদের একটি ভ্যাকসিন প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বেশ ভালো ফল করেছে। রাশিয়ার বার্ডেনকো হাসপাতালে মানুষের ওপর প্রয়োগও করা হয় এই ভ্যাকসিন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওই সময় জানান, ওই পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল মিলেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি।

যদিও এই নিয়ে শুরু থেকেই বেশ সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের সাফ দাবি এই ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারিভাবে তাদের কাছে কোনও তথ্যই নেই। এই প্রসঙ্গে হু’র মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার জানান, এরকম যেকোনও দাবি উঠলে আমরা সেই বিষয়ে বেশ সতর্ক থাকি। অনেক ক্ষেত্রেই বহু বিজ্ঞানী দাবি করেছেন তারা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছেন। অবশ্যই এটা খুবই ভাল খবর। তবে কোনও ভ্যাকসিন পেয়ে যাওয়া আর সেটার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সবরকম ভাবে হয়ে তাতে সফল হওয়ার মধ্যে বেশ অনেকটা পার্থক্য আছে। তবে গতকাল পুতিন বারংবার বলেন এই ভ্যাকসিনের সবরকম পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এটি সুরক্ষিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here