মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বদলে আপাতত দলের মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তাঁর পদত্যাগের দাবি ক্রমাগত জোরালো হয়ে ওঠার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শাসক দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে চলেছে এবং অচিরেই দল ভেঙে যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবনে ডাকা ক্যাবিনেট মিটিঙে বলেন, ”আমাদের পার্টির কিছু সদস্য প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারীকেও সরিয়ে দিতে চাইছে।” দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে উদ্ধৃত করে ‘মাই রিবাপ্লিকা’ সংবাদপত্র জানিয়েছে, শনিবার ওই মিটিঙে মন্ত্রীদের ওলি বলেন, ”এখন আমাকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের ষড়যন্ত্র চলছে।” এই প্রচেষ্টার কাছে প্রধানমন্ত্রী মাথা নোয়াবেন না জানিয়ে দলের গভীর সংকটের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রীদের কাছে।

রাষ্ট্রপতিকে ইম্পিচ করা নিয়ে ওলি’র মন্তব্যের পর তিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, পুষ্প কমল দহল ‘প্রচণ্ড’, মাধব নেপাল এবং ঝানালানাথ খানাল বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁরা জানান নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাকে সরিয়ে দিতে চাইছেন এই সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

শনিবার দলের ৪৫ জন সদস্যের স্ট্যান্ডিং কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ওলির ভাগ্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তটি সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়। ওলি’র ভারত বিরোধী অবস্থান এবং সরকার চালানোর নিজস্ব ধরনের কারণে দলে ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে,  সেই মতপার্থক্য মিটিয়ে নেওয়ার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট মন্ত্রীদের মিটিঙে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত মানবেন না। তিনি উপস্থিত মন্ত্রীদের কাছে সরাসরি জানতে চান যে তারা প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করবেন কিনা।

একক সিদ্ধান্তে বাজেট অধিবেশন স্থগিত রাখা নিয়ে ওলি’র বিরুদ্ধে দলে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের বলেন, ”গত সপ্তাহে বাজেট অধিবেশন স্থগিত রাখার বিষয়ে আমাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল কারণ, আমি জানতে পারি ওই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ইম্পিচ মোশান আনতে দলের সদস্যরা ষড়যন্ত্র করেছে।” প্রচণ্ড’র বিরুদ্ধে ওলি অভিযোগ জানিয়ে বলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় অসহযোগিতা করছেন।

প্রচণ্ড ওলির বিরুদ্ধে একক কর্তৃত্ব কায়েম করার অভিযোগ করে আসছেন অনেকদিন ধরেই।  ভারত ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যে স্পষ্টতই কেপি শর্মা ওলি’র প্রতি বিরক্ত সে বিষয়টি আড়াল করে রাখার কোনও চেষ্টাই প্রচণ্ড করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here