ডেস্ক: দাবিটা ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। দাবিকে মান্যতা দিয়েছে রাজ্য সরকারও। সবুজ সঙ্কেত এসেছে রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরের তরফেও। তাই এবার সেই দাবি বাস্তবতার পথে হাঁটা দিতে চলেছে খুব শীঘ্রই। পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে কালনা-শান্তিপুর সড়ক সেতুর কাজ। পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে গঙ্গা। নদীর ওপারে নদীয়া। নদী থেকে কিলোমিটার কয়েক গেলেই শান্তিপুর। নিত্যদিন নানা প্রয়োজনে সেই নদী পেরিয়েই চলে যাতায়াত। হুগলী আর বর্ধমানের নানা এলাকার মানুষজন যেমন নদী পেরিয়ে শান্তিপুর থেকে কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ কিংবা উত্তরবঙ্গ যাওয়ার ট্রেন-বাস ধরেন তেমনি ওপারের লোকজন এপারে এসে বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলী, হাওড়া যাবার ট্রেন-বাস ধরেন। আবার অনেকেই আসেন নিজেদের কাজে বা ব্যবসার প্রয়োজনে।

নদী পারাপারের সহজ মাধ্যম ভটভুটি। আবার দু চাকা চার চাকা যান পারাবারের জন্য রয়েছে ছোটওখাটো ভেসেলও। তবুও বেশ কয়েক বছর ধরেই সেতুর দাবি জোরালো হয়েছে নদীর দুইপারেই। কারন নিরাপত্তার অভাব। ভটভুটিতে নিরাপত্তার যেমন বড়সড় ঘাটতি রয়েছে তেমনি ভেসেল পারাপারের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারওপর গত বছর কালনায় একটি মেলা চলাকালীন সময়ে ভটভুটি দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর ক্রমশ জোরালো হয়েছে সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই রাজ্য সরকার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কালনা-শান্তিপুর সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কাজই খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।

তবে এরই মাঝে ধামাচাপা পড়ে রয়েছে এলাকার মানুষের অপর একটি পুরানো দাবি। সেটা হল মেমারি-কালনা-শান্তিপুর রেল প্রকল্পটি। এই প্রকল্পটি গড়ে উঠলে খুব কম সময়ে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল থেকে কৃষ্ণনগর, বহরমপুর, লালগোলা, বনগাঁ প্রভৃতি এলাকায় চলে যাওয়া যেত। কিন্তু যে কোন কারনেই হোক এই প্রকল্পটি নিয়ে রেলমন্ত্রক বা রাজ্য সরকার কেউই সেভাবে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। তাই প্রকল্পটি দিনের আলোর মুখও দেখতে পাচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here