Home Latest News ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে থানার দারস্থ নবদম্পতি! পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে থানার দারস্থ নবদম্পতি! পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

0
ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে থানার দারস্থ নবদম্পতি! পাশে দাঁড়ালো পুলিশ
Parul

নিজস্ব প্রতিবেদক, বারাসত: ১৯ বছরের তরুণী সুস্মিতা সেন ভালবেসেছিল ২১ বছরের যুবক সৌরভ দেবনাথকে। বছর খানেক আগে ফেসবুকে প্রথমে আলাপ। তারপর কিছুদিন সোশ্যাল সাইটেই চলেছিল বার্তা বিনিময়। পরে মাস চারেক ধরে সেই সম্পর্ক গাঢ় হয়। দুজন দুজনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং ভালোবেসে গত মাসের ২৩জুলাই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে। এরপর বিএসসির প্রথম বর্ষের ছাত্রী কেমিস্ট্রিতে অনার্স সুস্মিতা নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাপের বাড়িতে গিয়েছিল। তাদের বিয়ের কথা কাউকে না জানালেও স্বামীর দেওয়া সিঁদুর সে গোপনে পরছিল দিনের পর দিন। দিন কয়েক আগেই তার পরিবার সেটা দেখতে পেয়েই সুস্মিতার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থার শুরু করে বলে অভিযোগ। সেই হেনস্থা আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাইন্সের এই মেধাবী ছাত্রী রবিবার পরিবারের চোখে ফাঁকি দিয়ে সুদূর পূর্ব বর্ধমানের জে বি মিত্র রোডের বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে হাবড়ায় তাঁর স্বামী সৌরভ দেবনাথের বাড়িতে চলে আসে।

সুস্মিতা বাড়ি ছাড়তেই তার পিছু পিছু তার বাপের বাড়ির লোকেরাও হাজির হয় হাবড়ায় সৌরভ দেবনাথের বাড়িতে। তারা সাফ জানিয়ে দেয় এই বিয়ে তারা মানেন না। সুস্মিতাকে তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও তোলে তারা। এদিকে সুস্মিতার বাপের বাড়ি থেকে লোকেরা আসছে সেটা জানতে পেরেই সৌরভের বাড়ির লোকেদের মনে হয়েছিল, মেয়ের বাড়ির লোকেরা জোর জবরদস্তি করে সুস্মিতাকে তাদের সঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাই সৌরভের বাড়িতে সুস্মিতার বাপের বাড়ির লোকেরা আসার আগেই নবদম্পতি বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাবড়া থানার দারস্থ হয়। থানায় হাজির হয়েই তারা থানার আইসি গৌতম মিত্রের কাছে একটাই আর্তি জানিয়েছিল, ‘স্যার আমাদের যেন কোনও ক্রমেই বিচ্ছেদ না ঘটে।’

এরপরই পুলিশের তরফে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার পর পুলিশ জানতে পারে নবদম্পতি উভয়ই সাবালক। সুতরাং মেয়ের ইচ্ছাতেই থানার পুলিশের মধ্যস্থতায় নবদম্পতিকে তুলে দেওয়া হয় তাদের পরিবারের হাতে। মেয়েকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য থানার অফিসারদের কাছে মেয়ের বাবা আর্তি জানালেও কোনও লাভ হয়নি। কপালে তখন বড় করে দেওয়া সিঁদুরের প্রলেপ টানা সুস্মিতা তাঁর বাবার সামনেই জানায় সে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিন্ন করে যেতে রাজি নয়, তার স্বামীর কাছেই থাকতে চায় সে। ফলে কিছুটা নিরাশ হয়ে মেয়েকে না নিয়েই ফিরে যেতে হয় সুস্মিতার বাপের বাড়ির লোকেদের। আর অন্যদিকে পুলিশের ব্যবহারে খুশি নবদম্পতিও ফেরে হাবড়ার বাড়িতে। তবে গোটা ঘটনার কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি সৌরভ-সুস্মিতা হাবড়া থানার বড়বাবু গৌতম মিত্রের আশীর্বাদ নিতে ভুলে যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here