নিজস্ব প্রতিবেদক, উলুবেড়িয়া: পুলিশ প্রশাসনের কাজে আরও গতি আনার জন্য এবং আইনি পরিষেবা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার হাওড়া গ্রামীণ জেলা এলাকায় আরও একটি নতুন থানা আত্মপ্রকাশ করল। উলুবেড়িয়া থানার ৭২.২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গড়ে উঠল নতুন রাজাপুর থানা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে উলুবেড়িয়া-আমতা রোড সংলগ্ন রাজাপুরের এই নতুন থানাটি উদ্বোধন করেন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতে কাটার মধ‍্যে দিয়ে নতুন থানার দ্বারোদ্ঘাটন করেন উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ, হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা, বিধায়ক পুলক রায় ও ডাঃ নির্মল মাজি, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হায়দার আজিজ সফি প্রমুখ।

উল্লেখ্য একমাস আগে হাওড়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন উলুবেড়িয়া থানার উপর থেকে চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে রাজাপুরে একটি নতুন থানা তৈরি করা হবে। এই ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই সেই থানাটি এলাকার সাধারণ মানুষদের জন্য খুলে দেওয়া হল। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় উলুবেড়িয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় থানা রয়েছে, যার মধ্যে বাগনান, উদয়নারায়নপুর, ডোমজুড়, জগৎবল্লভপুর, শ্যামপুর ও সাঁকরাইল উল্লেখযোগ্য। আস্তে আস্তে এই ধরনের বড় থানাগুলিকেও ভেঙে পৃথক থানা করা হবে বলে পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা জানান। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় এতদিন একটি মহিলা থানা সহ মোট ১২টি থানা ছিল। রাজাপুর থানাটি নিয়ে এখন গ্রামীণ জেলা এলাকায় থানার সংখ্যা দাঁড়াল ১৩তে। এই নতুন থানাটি উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র, উলুবেড়িয়া-২ পঞ্চায়েত সমিতি ও আটটি গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত হল বলে জানান পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা।

৬ নম্বর জাতীয় সড়কে দুই ধারের ৮ কিলোমিটার এলাকাকে এই থানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতদিন জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি চালাত উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। এবার সেই দায়িত্ব ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় জাতীয় সড়কের উপর নজরদারি চলানো আরও সহজ হবে এবং অপরাধ মূলক কাজ আরও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই থানার প্রথম অফিসার ইনচার্জ হলেন অজয় সিং। তাঁকে নিয়ে মোট ২৩ জন পুলিশ কর্মী ও ১৫০ জন সিভিক ভলেন্টিয়ার থানার দায়িত্বে থাকবেন। যে যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি এই থানার অন্তর্ভুক্ত হবে সেগুলি হল তেহট্ট-কাঁটাবেড়িয়া-১, তেহট্ট-কাঁটাবেড়িয়া-২, বাণীবন, জোয়ারগোড়ী, তুলসীবেড়িয়া, বাসুদেবপুর, রঘুদেবপুর ও খলিসানি। আপাতত একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই নতুন থানার কাজকর্ম চলবে, পরে থানাটি অন্যত্র তার নিজের ভবনে ফিরে যাবে বলে জানা গিয়েছে। থানাটিকে সুসজ্জিত করার জন্য একটি পার্ক তৈরি করা হবে। এই জন্য বিধায়ক নির্মল মাজি তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে কুড়ি লক্ষ টাকা দেবেন বলে ঘোষণা করেন। এদিন একই সঙ্গে আমতা ও জগৎবল্লভপুর থানার নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়।