kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশের ডামাডোল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অস্বস্তি বাড়াল একটি আর্থিক সমীক্ষা। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালের অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল কডরো এবং ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ)-এর আর্থিক উপদেষ্টা গীতা গোপিনাথ এই সমীক্ষা প্রকাশ করেছেন। এই সমীক্ষায় মূলত আর্থিক ঝিমুনি এবং কর্মসংস্থান অভাবের জন্য নরেন্দ্র মোদীর মস্তিষ্কপ্রসূত নোটবন্দিকেই দায়ী করা হয়েছে।

প্রথমবার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ঘোষিত হয়েছিল ঐতিহাসিক নোটবন্দি। কালো টাকা উদ্ধার, সন্ত্রাসবাসীদের দৌরাত্ম কমানো এবং দেশের বিপণন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। যার জেরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার অন্তর্গত ৮৬ শতাংশ টাকাই ৮ নভেম্বর রাতারাতি অচল হয়ে যায়।

সমীক্ষা জানাচ্ছে, এত বড় ধাক্কা আচমকা সহ্য করতে পারেনি দেশের অর্থনীতি। যার জেরে সাধারণ মানুষ, তথাপি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত হতে হয়। বাজারে ক্যাশ টাকার অভাব পুরো প্রক্রিয়াকে নাড়িয়ে দেয়। এই সমীক্ষাটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘ক্যাশ অ্যান্ড ইকোনমি: এভিডেন্স ফ্রম ইন্ডিয়াস ডিমনিটাইজেশন’। সেখানে প্রকাশ পেয়েছে, নোটবন্দির ফলে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হ্রাস পায়। এবং চাকরির ক্ষেত্রে ২-৩ শতাংশ ছাঁটাই লক্ষ্য করা যায়। তবে এই পদক্ষেপের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে হল দেশের নানা জেলাগুলিকে। যেখানকার অর্থনীতি মূলত এটিএম নির্ভর। যার ফলে পে-টিএম সহ অন্যান্য অনলাইন ওয়ালেটদের বাজার রমরমা হয়ে ওঠে। বিজনেস টুডে.ইন-এর একটি রিপোর্টের কথা টেনে এই সমীক্ষার রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝে অর্থনৈতিক স্ফিতির পরিমাণ ২.২ হারে নীচের দিকে নেমেছে।

যদিও এহেন একাধিক সমীক্ষা সত্ত্বেও কেন্দ্র বারবারই নোটবন্দিকেই সমর্থন করেছে। কেন্দ্র সমর্থনকারী পক্ষের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলেই নাকি দেশে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here