national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: তারিখ পিছিয়েছে তিনবার। এবারও হয়তো পিছিয়ে যাবে। মনে বোধহয় এমনটাই আশা ছিল নির্ভয়া কাণ্ডের চার ধর্ষক খুনির। তবে শনিবার সওয়া পাঁচটায় সমস্ত প্রস্তুতি সেরে যখন অপরাধীদের নিয়ে যাওয়া হল ফাঁসির মঞ্চের দিকে, শেষ আশাটুকু প্রদীপের শিখার মত নিভে গেল বিনয়, অক্ষয়, পবন, মুকেশদের কাছে।

মৃত্যুকে অভ্যর্থনা জানাতে ফাঁসির মঞ্চ তখন পুরোপুরি প্রস্তুত। যে লিভারে টান দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে ৪ দোষীকে, তার পাশে তখন গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে পবন জল্লাদ। এ দৃশ্য দেখার পর শেষবারের মতো বাঁচার অর্তি ফুটে উঠল অপরাধীদের চোখে-মুখে। শিকল বাঁধা অবস্থায় জেলের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে আচমকা এক জেল আধিকারিকের পা জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল বিনয়। তাকে সামলানোর আগেই নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালাল অক্ষয় ও পবন। পাশে দাঁড়িয়ে তখনও ফ্যালফ্যাল করে ফাঁসির দড়ির দিকে চেয়ে রয়েছে মুকেশ। কোন কিছুতেই কাজ হল না। আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে প্রথমবার তিহারের অন্দরে ফাঁসিকাঠে ঝুলল একসঙ্গে চারজন। যদিও বাঁচার আকুতি থাকলেও অনুশোচনার বিন্দু বিসর্গও ছিল না চার অপরাধীর চোখে মুখে। ফাঁসির পর সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছেন পবন জল্লাদ।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পবন জল্লাদ বলেন ৪ অপরাধীকে যখন ফাঁসির মঞ্চের সামনে নিয়ে আসা হল কান্নাকাটি থেকে ধস্তাধস্তি অনেক কিছুই করে অপরাধীরা। তবে এক মুহূর্তের জন্য তাদের কারও চোখেমুখে ছিল না অনুশোচনা লেশমাত্র। সেই মুহূর্তের ব্যাখ্যা দিয়ে পবন বলেন, ফাঁসির মঞ্চে কথা বলার অনুমতি থাকে না কারও ভাবের আদান-প্রদান পুরোটাই হয় হাতের ইশারায়। জেলারের অনুমতিতে সবার প্রথমে সেদিন ফাঁসির মঞ্চে তোলা হয় অক্ষয় ও মুকেশকে। তারপর নিয়ে আসা হয় বিনয় ও পবনকে। ফাঁসির তক্তার উপরে চার জনকে দাঁড় করিয়ে দুটি লিভারের সঙ্গে কানেক্ট করা হয় তাদের। এরপর মুখে কাপড় পরিয়ে, এক ঝটকায় পৃথিবী থেকে মুক্তি দেওয়ার অপরাধীদের। এভাবেই শেষ হয় এক মায়ের সাত বছরের দীর্ঘ লড়াই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here