ফাঁসির অর্থ ঠাণ্ডা মাথায় খুন! দাবি নির্ভয়া ধর্ষকদের

0

ডেস্ক: সালটা ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। স্মৃতির তালিকায় ঘটনাটি কিছুটা ফিকে হয়ে গেলেও বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বারে বারে ফিরে আসে নির্ভয়ার সেই স্মৃতি। সেই সময় নির্ভয়া ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ৬ জনকে। তারমধ্যে এক নাবালক ছাড়া বাকি পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। যার মধ্যে একজন অবশ্য আত্মহত্যা করে জেলের মধ্যেই। শুক্রবার মৃত্যুদণ্ড মুকুবের আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় জেলবন্দী ৪ ধর্ষক।

নির্ভয়া ধর্ষণকাণ্ডে দুই ধর্ষক বিনয় কুমার ও পবন কুমারের বক্তব্য শোনে আদালত। নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ওই দুইজন বলে, ‘ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড হল বিচারের নামে ঠান্ডা মাথায় খুন।’ একইসঙ্গে তাদের আইনজীবী তাঁর সওয়ালে বলেন, ‘ওরা কেউই স্বভাবগত অপরাধী নয়। ওদের নামে আর কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। ওদের বয়সও অল্প। তাই ওদের শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত আদালতের।’ এদিন ধর্ষকদের আইনজীবী আরও বলেন, ‘বহু দেশেই মৃত্যুদণ্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড অপরাধীকে মেরে ফেলে ঠিকই, কিন্তু অপরাধকে নির্মূল করতে পারে না। যখন ওদের ধরা হয়েছিল, তখন ওরা ছিল নাবালক।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দীপক মিশ্র বলেন, ‘কিন্তু আদালত তো মৃত্যুদণ্ডই ওদের দিয়েছে আর সেটা এখনও বহাল রয়েছে।’

এরপর আদালতে দুই ধর্ষক বিনয় কুমার ও পবন কুমার বলে, ‘মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতেও নির্ভয়া কোনও অভিযুক্তের নামধাম বলে যাননি। অনেক পরস্পরবিরোধী মন্তব্যও ছিল সেই জবানবন্দিতে।’ যার পাল্টা হিসাবে সরকার পক্ষের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা বলেন, ‘যে দাবি করা হচ্ছে তার ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। আর সবকিছু খতিয়ে দেখেই ২০১৭-র মে মাসে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।’ মৃত্যুদণ্ড মুকুব প্রসঙ্গে শুক্রবার অবশ্য কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here